শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ইইউ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বৃহস্পতিবার অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী diplomatic বিরোধের জেরে সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে মোগাদিশু থেকে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। ব্লকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে যা মূলত ব্রাসেলসের একটি বিশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে মোগাদিশুর বর্তমান প্রশাসন ইউরোপে আশ্রয়ের অধিকার বঞ্চিত বা অবৈধ ঘোষিত তাদের নিজস্ব নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা করছে না। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে তার প্রশাসন প্রকৃত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দেশের স্বাধীনতা দিবেনর এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ স্পষ্ট করেন যে ইউরোপ থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো অনেক ব্যক্তি আসলে সোমালি নাগরিক নন। আফ্রিকার শিং বা হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের মানুষের বাহ্যিক অবয়ব, গায়ের রঙ এবং চেহারা প্রায় একই রকম হওয়ায় অনেকে ইউরোপে political আশ্রয় পাওয়ার অন্যায্য আশায় নিজেদের সোমালি নাগরিক হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেয়। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ পূর্বের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান যে অতীতে এমন কিছু মানুষকে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল যারা দেশটির স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জানত না। মোগাদিশুর পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবশ্যই প্রকৃত নাগরিকদের পরিচয় এবং তাদের জাতীয়তা শতভাগ নিশ্চিত করার পর ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

পরিচয় নিশ্চিতকরণ ছাড়াই নির্বিচারে সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া কোনো সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক সমাধান বয়ে আনবে না বলে তিনি ইউরোপীয় নেতাদের সতর্ক করেন। সোমালি প্রেসিডেন্ট বলেন যে তাদের দেশের মানুষই এই দেশের প্রকৃত মালিক এবং রাষ্ট্র কখনো তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু পরিচয় জালিয়াতি করে অন্য দেশের নাগরিকেরা সোমালিয়ার নামে আশ্রয় চাওয়ায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যা নিরসন করা জরুরি। পরিচয়হীন আন্তর্জাতিক নাগরিকদের মোগাদিশুর বিমানবন্দরগুলোতে গ্রহণ করা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনমিতির জন্য এক বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এই কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি যৌথ এবং স্বচ্ছ যাচাইকরণ প্যানেল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে সোমালি কর্তৃপক্ষ।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নতুন ভিসা বিধিনিষেধের ফলে ইউরোপে অবস্থানরত হাজার হাজার বৈধ সোমালি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও শিক্ষা কার্যক্রম কতটা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পূর্ব আফ্রিকার এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন কূটনৈতিক শীতলতা তৈরি হয়েছে। সোমালিয়া সরকার জানিয়েছে যে তারা আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল তবে নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের অন্যায্য বৈশ্বিক চাপের মুখে মাথা নত করবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা সংশোধনী পদক্ষেপ এখনো মোগাদিশুর কাছে এসে পৌঁছায়নি।

banner
Link copied!