ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার চূড়ান্ত লড়াইয়ে শুক্রবার গ্রুপ জি, এইচ এবং আই-এর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দল মাঠে নামছে বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। এই ম্যাচগুলোর মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে কোন দলগুলো শেষ বত্রিশের টিকিট পাবে এবং কারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। ইতোমধ্যে ফ্রান্স এবং নরওয়ের মতো দলগুলো পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করলেও গ্রুপ সেরা হওয়ার মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। একই দিনে মিশর, ইরান, বেলজিয়াম, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরবের মতো দলগুলো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য মরণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্তদের চোখ এখন উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন আধুনিক স্টেডিয়ামের দিকে যেখানে এই রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গ্রুপ আই-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি ফ্রান্স এবং নরওয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরোর বিখ্যাত বস্টন স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যা দুই দলের ফুটবল ইতিহাসের ১৬তম লড়াই হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ফরাসি দল ৪-০ ব্যবধানে এক বিশাল জয় পেয়েছিল। অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নরওয়ে মাত্র দুইবার ফ্রান্সকে হারাতে পেরেছে যার শেষটি এসেছিল ১৯৮৭ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে। ইউরোপের কোনো শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নরওয়ে এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের দেখা পায়নি এবং তাদের পূর্ববর্তী পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে দুটি ড্র ও তিনটি হার রয়েছে।
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের সাম্প্রতিক গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই ম্যাচে ফরাসিদের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৪ শতাংশ যা তাদের পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে উপস্থাপন করে। অন্যদিকে ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০.৬ শতাংশ যা গ্রুপ সেরা হিসেবে ফ্রান্সকে পরবর্তী রাউন্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। ডার্ক হর্স হিসেবে পরিচিত নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনাকে মাত্র ২০ শতাংশ রেটিং দেওয়া হয়েছে যা তাদের জন্য এক বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে সেনেগাল মুখোমুখি হবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধি ইরাকের। ফরাসি ও নরওয়েজিয়ান শিবিরের এই দ্বৈরথ দেখতে বস্টনের গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শক ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
অন্যান্য গ্রুপগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় যে গ্রুপ এইচ-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে শক্তিশালী স্পেন। মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন নিজেদের গ্রুপ সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে। এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে হিউস্টন স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দল সৌদি আরবের। কেপ ভার্দে ইতোমধ্যে স্পেনের সাথে গোলশূন্য ড্র এবং উরুগুয়ের সাথে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবের জন্য এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শেষ সুযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে নকআউটে যেতে হলে অবশ্যই পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।
গ্রুপ জি-এর খেলায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে মিশর এবং ইরান যা মুসলিম বিশ্বের ফুটবল অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। উভয় দলই বেলজিয়ামের সাথে ড্র করে এবং নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে সমানভাবে টিকে রয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে বেলজিয়াম মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যেখানে কেভিন ডি ব্রুইনের দল পূর্ণ জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। মাঠের বাইরে মেক্সিকো ইতোমধ্যে তাদের সব ম্যাচ জিতে নিখুঁতভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে এবং ডাচ সমর্থকেরা কানসাস সিটিকে কমলার সমুদ্রে পরিণত করে উৎসব উদযাপন করছে। আফ্রিকান দলগুলোও এই আসরে একটি ঐতিহাসিক নকআউট পর্বের রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিচ্ছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো তাদের বেঞ্চের গভীরতা কতখানি ব্যবহার করবে এবং নকআউট পর্বের আগে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেবে কি না। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারদের মুখোমুখি লড়াই দেখার জন্য ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। উম্মাহ কণ্ঠের বিশেষ সম্পাদকীয় প্যানেল মনে করে যে এই ম্যাচগুলোর ফলাফল কেবল দলগুলোর পরবর্তী যাত্রাই নির্ধারণ করবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্ষমতার নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। ফুটবল ভক্তদের জন্য এই শুক্রবারের রাতটি হতে যাচ্ছে এক অবিস্মরণীয় এবং রোমাঞ্চকর ক্রীড়া উৎসবের মঞ্চ।
