শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ২০২৬ নকআউট পর্বের নতুন নিয়ম ও সমীকরণ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৬, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬ নকআউট পর্বের নতুন নিয়ম ও সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন বা ফিফা শুক্রবার বৈশ্বিক মহোৎসবের মেগা আসর বিশ্বকাপ ২০২৬ নকআউট পর্বের যোগ্যতা অর্জনের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী এবং নতুন টাইব্রেকার সমীকরণ প্রকাশ করেছে বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। এবারের আসরে মোট দলের সংখ্যা বত্রিশ থেকে বাড়িয়ে রেকর্ড আটচল্লিশ করার কারণে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ বত্রিশ বা রাউন্ড অব থার্টিটু পর্বটি যুক্ত করা হয়েছে। আগামী আটাশ জুন থেকে তিন জুলাই পর্যন্ত এই নতুন রাউন্ডের ম্যাচগুলো উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নকআউট পর্বের এই নতুন রূপরেখা ইতিমধ্যেই তৈরি হতে শুরু করেছে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত দলগুলোর নাম নিশ্চিত করা হচ্ছে। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল এবং সব গ্রুপ মিলিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

এবারের আসরে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা টাইব্রেকার বা পয়েন্ট সমান হওয়ার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে যা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। এতদিন গ্রুপ পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে সামগ্রিক গোল ব্যবধানকে প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ২০২৬ সালের এই মেগা টুর্নামেন্টে ফিফা প্রথমবারের মতো হেড টু হেড বা সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচের রেকর্ডকে প্রধান টাইব্রেকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপে দেখা হবে পয়েন্টে সমান থাকা দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট সংখ্যা কত। যদি সেখানেও সম্পূর্ণ সমতা থাকে তবে দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচের গোল ব্যবধান এবং এরপর নিজেদের ম্যাচে করা মোট গোলের সংখ্যা বিবেচনা করা হবে।

যদি হেড টু হেড নিয়মের প্রথম ধাপের পরও দলগুলোকে আলাদা করা না যায় তবে দ্বিতীয় ধাপের সামগ্রিক নিয়মাবলী কার্যকর করা হবে। এই ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হবে পুরো গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ মিলিয়ে কোন দলের সামগ্রিক গোল ব্যবধান সবচেয়ে ভালো। এরপর গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে করা মোট গোলের সংখ্যা বিবেচনা করা হবে। যদি এই সমস্ত মানদণ্ডেও দলগুলো সমান অবস্থানে থাকে তবে দলগুলোর ফেয়ার প্লে বা শৃঙ্খলাজনিত পয়েন্ট গণনা করা হবে যেখানে খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের পাওয়া হলুদ ও লাল কার্ডের সংখ্যা হিসাব করা হবে। যদি অবিশ্বাস্যভাবে সেখানেও দলগুলো সমান থাকে তবে ফিফা কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ বিশ্ব র‍্যাংকিং অনুযায়ী দলগুলোর চূড়ান্ত অবস্থান বা বিশ্বকাপ ২০২৬ নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা হবে।

গ্রুপের সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নির্ধারণের জন্যও ফিফা একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এই ক্ষেত্রে প্রথমে দলগুলোর গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ থেকে অর্জিত মোট পয়েন্ট দেখা হবে। পয়েন্ট সমান হলে সামগ্রিক গোল ব্যবধান এবং এরপর মোট গোলের সংখ্যা বিবেচনা করা হবে। সেখানেও সমতা থাকলে শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড এবং সবশেষে ফিফা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের সাহায্য নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে এবং হ্যারি সুটার ও জ্যাকসন আরভিনের মতো তারকারা শেষ বত্রিশে যাওয়ার উল্লাস উদযাপন করেছেন। এই বর্ধিত নকআউট সময়সূচী অনুযায়ী চার থেকে সাত জুলাই রাউন্ড অব সিক্সটিন, নয় থেকে এগারো জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল এবং চৌদ্দ ও পনেরো জুলাই সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। আগামী আঠারো জুলাই ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ এবং ১৯ জুলাই মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চের পর্দা নামবে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নতুন হেড টু হেড নিয়মের কারণে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচগুলোতে দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা এবং রক্ষণাত্মক মানসিকতায় কেমন পরিবর্তন আসবে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন যে সামগ্রিক গোল ব্যবধানের চেয়ে নিজেদের মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়ায় দলগুলো গ্রুপ পর্বের শুরু থেকেই অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে বাধ্য হচ্ছে। কাতার এবং ওমানের মতো এশীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই নতুন নিয়মের মারপ্যাঁচে নকআউটের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য তাদের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত রয়েছে। উম্মাহ কণ্ঠের সম্পাদকীয় প্যানেল মনে করে যে আটচল্লিশ দলের এই বর্ধিত আসরে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করার ফলে টুর্নামেন্টের উত্তেজনা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি ছোট দলগুলোর জন্যও বিশ্বমঞ্চে বড় চমক দেখানোর এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

banner
Link copied!