শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

গোপন নথি মামলায় দোষ স্বীকার করলেন ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা বোল্টন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৬, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

গোপন নথি মামলায় দোষ স্বীকার করলেন ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা বোল্টন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন শুক্রবার ম্যারিল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে অন্যায়ভাবে গোপনীয় জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য নিজের কাছে রাখার অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিশ্চিত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রিনবেল্টের মার্কিন জেলা আদালতে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে নিজের দোষ স্বীকার করেন। গত বছর নিজের বিরুদ্ধে আনা ১৮টি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগের বিপরীতে প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও আইনি সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি এখন একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এই অপরাধের কারণে তাকে ২২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবর ম্যারিল্যান্ডের মার্কিন জেলা জজ থিওডোর চুয়াং এই মামলার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবেন।

আদালতের নথিপত্র এবং মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে যে জন বোল্টন ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের অধীনে হোয়াইট houses দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের স্পর্শকাতর সরকারি নথিপত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন। তিনি তার একটি স্মৃতিকথা বা নতুন বই লেখার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই তথ্যগুলো নিজের স্ত্রী ও কন্যার সাথে শেয়ার করেছিলেন। এই গোপন দলিলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা ব্রিফিং এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বৈঠকের অত্যন্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত নোট অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে তিনি একটি ব্যক্তিগত অসংরক্ষিত ইমেল এবং মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রায় ১,০০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি তার দুই আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বিদেশি চক্রের মাধ্যমে তার সেই ব্যক্তিগত ইমেল অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয় যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছিল বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।

জন বোল্টন অতীতে জর্জ ডব্লিউ বুশের शासনামলে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একজন কট্টরপন্থী কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর মতবিরোধের কারণে বিদায় নিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির একজন অন্যতম তীব্র সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০২০ সালে তিনি একটি বই প্রকাশ করেছিলেন যা বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন আইনি চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে তার প্রশাসনের বিচার বিভাগ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক মামলার চেয়ে বোল্টনের এই তদন্তটি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল কারণ এটি ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই কর্মকর্তারা বোল্টনের ম্যারিল্যান্ডের বাসভবন এবং ওয়াশিংটনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে এই গোপন নথিগুলো উদ্ধার করেছিলেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো আগামী দিনে এই মামলার সাজা ঘোষণার পর মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে। যদিও প্রসিকিউশন পক্ষ তার কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তবে আদালত এই নির্দেশ মানতে পুরোপুরি বাধ্য নয়। জন বোল্টনের আইনি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে যে আদালতের চূড়ান্ত সাজা যদি তাদের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে তবে তারা এই অপরাধের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করার আইনি অধিকার রাখেন। আদালতের সমঝোতা অনুযায়ী জরিমানার প্রথম অংশ আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এবং বাকি অংশ ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার আইনি পরিণতি মার্কিন রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন নথির অপব্যবহার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে বলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

banner
Link copied!