রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইসরায়েলি কারাগারে ধুঁকছেন গাজার হাসপাতালের পরিচালক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

ইসরায়েলি কারাগারে ধুঁকছেন গাজার হাসপাতালের পরিচালক

ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার হুসাম আবু সাফিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। দীর্ঘ ৫৫৫ দিনের বেশি সময় ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। গত রোববার তার ছেলে এলিয়াস আবু সাফিয়া এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পিতার দ্রুত মুক্তির জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কারাগারে কঠোর নির্যাতনের ফলে তার পিতার জীবন এখন হুমকির মুখে।

আইনজীবী নাসের ওদেহ সম্প্রতি কারাগারে ড. হুসাম আবু সাফিয়ার সাথে দেখা করার সুযোগ পান। সাক্ষাতের পর তিনি যে বিবরণ দিয়েছেন তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এলিয়াস আবু সাফিয়া, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, জানান যে তার পিতা এখন কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার মতো স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। কারাগারে তাকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এলিয়াস আরও বলেন, শারীরিক নির্যাতন এবং দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কারণে তার পিতার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। বিশেষ করে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আদালতের শুনানির পর তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে বলে আইনজীবী উল্লেখ করেছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালের কর্মস্থল থেকে ড. হুসাম আবু সাফিয়াকে আটক করে। গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ইসরায়েলের হামলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এই চিকিৎসকের আরেক ছেলে ইব্রাহিম হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহত হয়েছিলেন। হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে তিনি গাজার উত্তর প্রান্তের স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এলিয়াস আবু সাফিয়া তার পিতার এই করুণ পরিণতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতাদের নীরবতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই তার পিতা ও অন্যান্য বন্দীদের সমর্থনে তাদের এগিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে তাদের নীরবতা কেবল বেদনাদায়ক নয়, বরং ইসরায়েলি কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে গণ্য করা উচিত। তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে এই চিকিৎসকের মুক্তির জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।

গাজার স্বাস্থ্যসেবা খাত ধ্বংসের পথে এবং এই পরিস্থিতির মধ্যে ড. হুসাম আবু সাফিয়ার মতো চিকিৎসকদের এভাবে বন্দী রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে। তার পরিবারের দাবি, শারীরিক অবস্থার যে অবনতি হয়েছে তাতে দ্রুত সুচিকিৎসা না পেলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাদের একটাই চাওয়া, মানবিক কারণে অন্তত যেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয় অথবা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

banner
Link copied!