যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ নির্বাচিত হওয়ার আগের বছর একজন দণ্ডিত প্রতারকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং সেই তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্য সানডে টাইমস প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, জর্জ কট্রেল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাড়ি চালক, কর্মী এবং আবাসনের মতো সুবিধাগুলোর কথা ফারাজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি, যা যুক্তরাজ্যের সংসদীয় নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে।
জর্জ কট্রেল ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি ২০১৭ সালে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে কারাবরণ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের আগে ফারাজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার জন্য কট্রেল কর্মী নিয়োগ করেছিলেন এবং তাদের বেতন প্রদান করেছিলেন। এছাড়া বাকিংহাম প্যালেসের কাছে একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট জর্জিয়ান টাউনহাউস ফারাজকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি।
ফারাজের মুখপাত্র এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন যে, প্রতিবেদনে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয় এবং কোনো সংসদীয় নিয়ম ভাঙা হয়নি। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের এমপি জোশ বাবারিণ্ডে সংসদীয় কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডস বরাবর চিঠি লিখে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করে বলেছেন, ফারাজ এমপিদের আচরণবিধি মেনে চলার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা পালন করেছেন কিনা তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
এমপিদের আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচিত হওয়ার ১২ মাসের মধ্যে ৩০০ পাউন্ডের বেশি মূল্যের যেকোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে তা অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে, যদি তা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর নাইজেল ফারাজ কেবল একটি সুবিধা ঘোষণা করেছিলেন, যা বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি কনফারেন্সে ভ্রমণের জন্য জর্জ কট্রেলের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় নয় হাজার দুশো পাউন্ডের সহায়তা ছিল।
জর্জ কট্রেল আইনজীবীর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ফারাজের ব্যক্তিগত অফিসের জন্য কর্মী নিয়োগ করেছিলেন এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাদের বেতন দিতেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সর্বশেষ অর্থ প্রদান করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, নাইজেল ফারাজ বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি ধনকুবের ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে নেওয়া ৫০ লক্ষ পাউন্ডের উপহার সংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগে সংসদীয় তদন্তের মুখোমুখি রয়েছেন। ফারাজ দাবি করেছেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি এই অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে ডানপন্থী এই পপুলিস্ট নেতাকে হাউস অফ কমন্স থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হতে পারে।
