ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হুদাইদাহ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের একজন মন্ত্রী। আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির জাবাল দাব্বাস এলাকায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ওয়ালিদ আল-কুদাইমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের ভূমি ও মর্যাদা রক্ষায় লড়াইরত সরকারি বাহিনীর অন্তত ১৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, পাল্টা হামলায় ৫০ জনেরও বেশি হুথি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তবে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই সংঘর্ষ নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে আরও ২৩ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে হুথি বিদ্রোহীরা হঠাৎ সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায় এবং কিছু এলাকা সাময়িকভাবে দখল করে নেয়। এরপর সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে শনিবার ভোর নাগাদ এলাকাগুলো পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
হুদাইদাহ ইয়েমেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। গত কয়েক বছর ধরে সেখানে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই উত্তেজনা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশটিতে চলমান অস্থিরতার নতুন রূপ। ইয়েমেনের চলমান এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের নানা উদ্যোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হচ্ছে না। দীর্ঘ এই গৃহযুদ্ধে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে শুরু করে অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্র বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, জাবাল দাব্বাস এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সংঘাতপূর্ণ এই এলাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটিতে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রায়ই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। শনিবারের এই ঘটনাটি ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টায় নতুন করে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি আরও প্রকট হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
