ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আলী খামেনির শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে সমবেত হয়েছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই আয়োজনে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও প্রয়াত নেতার ছেলে মোজতাবা খামেনির অনুপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আলী খামেনির অন্য তিন ছেলে মাসুদ, মোস্তফা ও মেসাম শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও মোজতাবা খামেনির অনুপস্থিতি বিভিন্ন মহলে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান আহমেদ ভাহিদি এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। শোকের আবহে রবিবার দেশজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানাতে রাজধানী তেহরানসহ ইরাকের বিভিন্ন স্থানে আগামী কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ইরান ও ইরাকের প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। একে অনেকে শতাব্দীর সেরা শেষকৃত্য হিসেবে বর্ণনা করছেন। রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শিয়া আলেম জাফর সোবহানি জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন। ৯৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ আলেম ইরানের পবিত্র শহর কোমের সেমিনারিতে পাঠদান করেন। সোমবার তেহরানের রাস্তায় বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার মরদেহ সমাহিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তবে এই শোকের আয়োজনের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেষকৃত্য উপলক্ষে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। গণমাধ্যম এক্সিওসকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একসঙ্গে অবস্থান করার বিষয়টি চাইলে মার্কিন বাহিনীর নজরে আনা যেত। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চাইলেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব ছিল, কিন্তু আলোচনার পথ খোলা রাখতে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরানের শোকার্ত মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।
তেহরানের শোক সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান শোনা গেছে। শোক মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপি এবং দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সমাবেশ থেকে ট্রাম্পের মৃত্যুর আহ্বানে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়েছে। শোকার্তরা এই আয়োজনকে কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন। যদিও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর রাখা হয়েছে, তবুও অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মোসাল্লার আশেপাশে স্থাপিত চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার মানুষ প্রাথমিক সেবা নিয়েছেন।
