রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরাক যুদ্ধফেরত অভিবাসী সেনাকে বহিষ্কার করছে যুক্তরাষ্ট্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

ইরাক যুদ্ধফেরত অভিবাসী সেনাকে বহিষ্কার করছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে ইরাক যুদ্ধফেরত এক মেক্সিকান অভিবাসী সেনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-বহিষ্কার নীতির কারণে ইমিগ্রেশন হেফাজতে আটক রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। মেক্সিকো থেকে শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বেনিতো মিরান্ডা হার্নান্দেজ নামের ওই সাবেক মার্কিন সেনা ইরাক যুদ্ধের সময় তিনবার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সামরিক বাহিনীতে সেবা দেওয়ার বিনিময়ে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে তিনি দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন। সান ডিয়েগোর ফেডারেল আদালতের বাইরে কৃষ্ণাঙ্গ বহিষ্কৃত সেনা অধিকার রক্ষা বিষয়ক একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জেমস স্মিথ এই আটকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের গণ-বহিষ্কারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে যুদ্ধফেরত অভিবাসী সেনা সদস্যরা এই নীতির কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে সাবেক সেনাদের একটি বড় অংশ বন্দি রয়েছে এবং তাদের অনেকেই দীর্ঘ সামরিক দায়িত্ব পালনের পর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। হার্নান্দেজও সামরিক বাহিনী ছাড়ার পর সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে আসতে তীব্র লড়াই করেছিলেন এবং মাদক সংক্রান্ত একটি অপরাধের দায়ে সাজা ভোগ শেষে গত ১৪ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

হার্নান্দেজের মা মারিয়া মিরান্ডা তার ছেলেকে কারাগার থেকে নিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করার সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-এর কর্মকর্তারা তাকে আটক করে। এই বছরের শুরুর দিকে স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ড পেলেও তাকে সরাসরি সান ডিয়েগোর ওটাই মেসা ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করা অভিবাসী সেনাদের বহিষ্কারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস গত মার্চ মাসে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে বিগত এক বছরে অন্তত ৩৪ জন সাবেক সেনার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো আইসিই আসলে কতজন সাবেক সেনাকে এ পর্যন্ত আটক বা বহিষ্কার করেছে কারণ সংস্থাটি নিয়মানুযায়ী বন্দিদের সামরিক পটভূমির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। রেপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিওটস নামক একটি সংগঠনের সভাপতি দানিতজা জেমস জানান যে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ছয়জন আটক সাবেক সেনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে মার্কিন সরকার অভিবাসী সেনাদের ত্যাগের কোনো মূল্যায়ন করছে না এবং তাদের কেবল ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে দেখছে। দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী জনবল সংকট মেটাতে অভিবাসী তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধে নিয়োজিত করলেও তাদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত বা বাতিল করার নজির অগণিত। হার্নান্দেজের ক্ষেত্রেও ২০০৬ সালে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার ডাকার আগেই একটি অপরাধের অজুহাতে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল যা মার্কিন সামরিক নীতির একটি বড় ব্যর্থতা নির্দেশ করে।

banner
Link copied!