যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে জুন মাসে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি হ্রাস পেয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির এই ধীরগতি দেশটির শ্রম বাজারে কিছুটা অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস তাদের মাসিক কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে যে জুন মাসে দেশটিতে ৫৭০০০টি নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় কম। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
প্রতিবেদনটিতে আগের দুই মাসের কর্মসংস্থান সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করে কমানো হয়েছে। মে মাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংখ্যা ১৭২০০০ থেকে কমিয়ে ১২৯০০০ করা হয়েছে। একইভাবে এপ্রিল মাসের সংখ্যা ৩১০০০ কমিয়ে ১৪৮০০০ নির্ধারণ করা হয়েছে। জুন মাসে নতুন নিয়োগ প্রধানত কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পেশাগত ও ব্যবসায়িক পরিষেবা খাতে ৩৬০০০, স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২২০০০ এবং সামাজিক সহায়তা খাতে ২৫০০০ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে খনি, তেল ও গ্যাস উত্তোলন, নির্মাণ, উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন এবং আর্থিক খাতের কর্মসংস্থান ছিল স্থবির। সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে আতিথেয়তা খাতে। এই খাত থেকে ৬১০০০ কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের গরমের মরসুমে এই খাতটিতে পর্যটনের ঢেউ সামলাতে ব্যাপক কর্মী নিয়োগের প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে চলমান ফিফা বিশ্বকাপের প্রভাবে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছিল যে বিশ্বকাপের কারণে জুন মাসে অতিরিক্ত ৪০০০ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যা বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি।
বেকারত্বের হার ৪.৩ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে ৪.২ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া ইউ-৬ বেকারত্বের হার, যা নিরাশ হয়ে শ্রম বাজার থেকে সরে আসা কর্মী ও খণ্ডকালীন কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে, ৮.১ শতাংশ থেকে ৭.৯ শতাংশে নেমেছে। তবে শ্রম শক্তিতে অংশগ্রহণের হার ০.৩ শতাংশ কমে ৬১.৫ শতাংশে ঠেকেছে, যা ২০২১ সালের মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতি সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যের অভাব নির্দেশ করছে। এডি পি-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ নেলারিচার্ডসন জানিয়েছেন, নিয়োগের গতি ধীর হওয়া সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। কনফারেন্স বোর্ডের জরিপে দেখা গেছে, ২২.৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন বর্তমানে কাজ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দুর্বলতার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী। ন্যাজডাক এবং এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ বেড়েছে এবং ডাউ জোন্স বেড়েছে ০.৮ শতাংশ। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন এই তথ্যের কারণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধির পথে আপাতত হাঁটবে না, যার ফলে সোনার দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
