সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি: হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি: হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত অবসানে একটি কাঠামোগত শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে। এপি এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি ইরান উপকূলের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

চুক্তিটির অধীনে উভয় পক্ষ সমস্ত রণাঙ্গনে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে এবং কাতারের প্রতিনিধিরা পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইরানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন যে তেহরান এই চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলতে প্রস্তুত, তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে না।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সংঘাতের কারণে এই পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় জ্বালানি বাজারে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই ঘোষণার পর তাতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে এবং এশীয় ও ইউরোপীয় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের পর এই জলপথের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে পেতে সময় প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিনের সংঘর্ষের ফলে প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে, যা দূর করার জন্য সময় ও সতর্কতার প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বিবিসিকে বলেছেন যে পুরোপুরি স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই চুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে যুদ্ধের সমাপ্তি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, কঠোরপন্থীরা এই আলোচনার বিরোধিতা করেছে। উভয় পক্ষ পরবর্তী পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনার পরিকল্পনা করেছে, যা এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী সফলতার ওপর প্রভাব ফেলবে। এখন জেনেভার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

banner
Link copied!