চীনের সিচুয়ান প্রদেশের জিয়াংইউ শহরে একটি প্রভাবশালী খ্রিস্টান চার্চে পুলিশি অভিযানের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সাপ্তাহিক প্রার্থনা সভা চলাকালীন সময়ে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা সেখানে হানা দেয়। আর্লি রেইন কোভেন্যান্ট চার্চের পক্ষ থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, অভিযানের সময় চার্চের দুই শীর্ষ নেতা ইয়াং হং এবং উ উকিংকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে, যখন বহু ভক্ত সেখানে প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছিলেন।
২০০৮ সালে চেংদুতে প্রতিষ্ঠিত আর্লি রেইন কোভেন্যান্ট চার্চ বরাবরই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর নজরদারির মধ্যে ছিল। ২০১৮ সালে চার্চটির প্রতিষ্ঠাতা প্যাস্টর ওয়াং ই-কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চার্চের বিবৃতিতে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র পুলিশ অফিসার একটি হোটেলের বলরুমে অভিযান চালায়। আটক হওয়া ৩০ জনেরও বেশি সদস্যকে জিয়াংইউ ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাকিদের বলরুমে আটকে রেখে পরিচয় যাচাই করা হয়।
কর্মকর্তারা উপস্থিত ভক্তদের কোনো একটি হলফনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ভক্তরা তাতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক সদস্য আটক থাকা অবস্থাতেও প্রার্থনা এবং গায়েন করতে থাকেন, যা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। এই ঘটনা চীনের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সরকারের কঠোর অবস্থানের আরেকটি প্রমাণ বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সরকার কেবল রাষ্ট্র-অনুমোদিত চার্চগুলোকেই স্বীকৃতি দেয়, যার বাইরে অনেক হাউস চার্চ গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের চার্চের বিরুদ্ধে ধরপাকড় এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আটককৃত দুই নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগেও তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। রবিবার রাতে জিয়াংইউ ডিটেনশন সেন্টার থেকে অধিকাংশ সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হলেও, দুই নেতার আটকের বিষয়টি এখনো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো চীনের এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। দেশটির কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মধ্যে ভূগর্ভস্থ চার্চগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
