সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনের মৃত্যুতে কেরালায় গভীর শোক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৪, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনের মৃত্যুতে কেরালায় গভীর শোক

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার একটি স্থানীয় মসজিদে গত মঙ্গলবার আজান দেওয়ার সময় আব্দুল লতিফ নামে এক প্রবীণ মুয়াজ্জিনের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির আঞ্চলিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে আজানের সময় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু এর এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে গভীর শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও স্পষ্ট কণ্ঠে দুপুরের নামাজের জন্য আজান দেওয়া শুরু করেছিলেন কিন্তু মাঝপথে হঠাৎ অবশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা অবিলম্বে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে আব্দুল লতিফ মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সুমধুর সুরে আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে যখন তিনি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্রতম সাক্ষ্য অর্থাৎ শাহাদাতের বাণী উচ্চারণ করছিলেন ঠিক তখনই আচমকা তার শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে যায়। তিনি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মসজিদের মেঝেতে পড়ে যান এবং তার হাত থেকে মাইক্রোফোনটি ছিটকে যায়। ওই সময় মসজিদে অবস্থানরত কয়েকজন মুসল্লি দ্রুত তার দিকে ছুটে আসেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মেডিকেল রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে আকস্মিক তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার মৃত্যু ঘটে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো ওই ঘটনার পূর্বে আব্দুল লতিফের কোনো দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগ বা অন্য কোনো জটিল শারীরিক অসুস্থতা ছিল কি না কারণ স্থানীয় মেডিকেল বোর্ড এখনো তাদের চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তবে কেরালা রাজ্যের স্থানীয় ইসলামিক স্কলার এবং ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে মহান আল্লাহর এক বিশেষ রহমত এবং ঈমানদার বান্দার সর্বোত্তম বিদায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো নেক আমল বা ইবাদত সচল থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের লক্ষণ যা মানুষের পরকালীন মুক্তির পথকে সহজ করে তোলে। এই মুয়াজ্জিন দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকার মসজিদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

এই অভাবনীয় মৃত্যুর খবরটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভাষার মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছেন। অনেক আন্তর্জাতিক ইসলামিক চিন্তাবিদ মন্তব্য করেছেন যে মানুষকে প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের দিকে আহ্বান করার এই পবিত্র দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এক বিরল সৌভাগ্যের পরিচয় বহন করে। মরহুম আব্দুল লতিফের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাতে কেরালার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার বাসভবনে ভিড় করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির যৌথ উদ্যোগে তার জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে যেখানে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম অংশগ্রহণ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

banner
Link copied!