vietnam সরকার চলতি বছরের জুন মাস থেকে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত হালাল পণ্য আইন বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং সালাম গেটওয়ে নিশ্চিত করেছে। বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে নিজেদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা, মুসলিম দেশগুলোতে খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক আইনি কাঠামো চালু করা হয়েছে। দেশটির নীতি নির্ধারকরা গত এপ্রিল মাসে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় ডিক্রি জারি করেছিলেন যা বর্তমান গ্রীষ্মকালীন মরশুমে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভিয়েতনামের অভ্যন্তরে হালাল খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সনদ প্রদানের পুরো ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ সরকারি আইনিনজরদারির আওতায় এলো।
নতুন কার্যকর হওয়া এই হালাল পণ্য আইন অনুযায়ী যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত সামগ্রী হালাল হিসেবে বাজারজাত করতে হলে কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। পণ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং চূড়ান্ত বিপণনের প্রতিটি ধাপে শতভাগ শরিয়াহসম্মত মানদণ্ড বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য ও ওষুধ তৈরিতে কোনো প্রাণিজ উপাদান ব্যবহার করা হলে তা অবশ্যই অনুমোদিত ইসলামিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে। উৎপাদন লাইনে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ বা হারাম উপাদানের মিশ্রণ ও দূষণ প্রতিরোধে কারখানাগুলোতে আধুনিক ও পৃথক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিয়েতনামের জাতীয় মান, পরিমাপ ও গুণগত মান কমিশন এই নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সরাসরি তদারকি করছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে হালাল সনদকে তারা কেবল একটি ধর্মীয় নিয়ম হিসেবে দেখছেন না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের একটি কৌশলগত মাধ্যম এবং পণ্যের উচ্চ গুণগত মানের গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই সনদ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভিয়েতনামের স্থানীয় কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাত বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন মুসলিম বাজারের দুয়ার উন্মোচন করতে সক্ষম হবে। দেশটির সরকার আশা করছে যে এই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ফলে তাদের জাতীয় রপ্তানি আয় আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নতুন আইনগত বাধ্যবাধকতা ভিয়েতনামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে কি না। অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী মনে করছেন যে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারখানাগুলোর রূপান্তর ঘটাতে বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে যা ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে দেশটির সরকার এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বর্তমানে ভিয়েতনামে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের হালাল সনদ নিয়ে কাজ করছে যা এই আইনের ফলে আরও গতিশীল হবে।
বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের মতো বৃহৎ মুসলিম দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সাথে দেশটি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি এবং ইসলামিক দেশগুলোর মান ও পরিমাপবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক নীতিমালার সাথে নিজেদের জাতীয় আইনের সমন্বয় সাধন করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সফল হালাল অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করে ভিয়েতনাম তাদের জাতীয় রপ্তানি কৌশল পুনর্নির্মাণ করছে। একই সাথে মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাদ্য, মুসলিমবান্ধব হোটেল ও বিশেষ পর্যটন সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশটির পর্যটন শিল্পে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
