রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

ছবি : সংগৃহীত

মেক্সিকোতে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে আগত লাখ লাখ আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে ইসলাম ও আরব সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ’ এক নজিরবিহীন ও বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বলে রবিবার নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা এবং আরব নিউজ। ‘অনুপ্রেরণাদায়ক সভ্যতা’ শীর্ষক এই বিশেষ প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, মুসলিম বিজ্ঞানীদের ঐতিহাসিক অবদান এবং আরব সংস্কৃতির মহান আতিথেয়তার চিত্র নিখুঁতভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। মেক্সিকো সিটির প্রধানতম সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সমান্তরালে চলা অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে যা বিভিন্ন দেশের দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এই বিশাল প্রদর্শনীর অভ্যন্তরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ১১টি বিশেষায়িত প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য ইসলামী ইতিহাসের বিভিন্ন সোনালী অধ্যায় প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাক্টিভ মডেল, বিরল বই, তথ্যসমৃদ্ধ প্রকাশনা এবং প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, স্থাপত্য এবং সামাজিক মূল্যবোধের এক চমৎকার চিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আগত বিভিন্ন অমুসলিম ও পশ্চিমা দেশের দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যেখানে তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব আগ্রহে ঐতিহ্যবাহী আরবীয় পোশাক যেমন থোব, শেমাগ এবং বিশত পরিধান করে ছবি তুলতে পারছেন। এর পাশাপাশি নারীদের জন্য মেহেদির নান্দনিক নকশা এবং হিজাব পরিধানের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের বিশেষ বুথ রাখা হয়েছে যা বিশ্বজুড়ে ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণা দূর করতে সাহায্য করছে।

সমগ্র প্রদর্শনী প্রাঙ্গণের অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদ অর্থাৎ মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীকে উৎসর্গ করা একটি বিশেষায়িত প্যাভিলিয়ন। এই প্যাভিলিয়নে দুই পবিত্র মসজিদের অত্যন্ত নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য মডেল, বিরল ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং আধুনিক যুগের বিশাল সম্প্রসারণ কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখ লাখ হাজী এবং ওমরাহ পালনকারীদের সেবা প্রদানে সৌদি আরবের উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিবরণ এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যা দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছেন।

আরব সংস্কৃতির চিরন্তন আতিথেয়তার ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে জীবন্ত রূপ দিতে প্রদর্শনী চত্বরে একটি বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী আরবীয় তাঁবু নির্মাণ করা হয়েছে। এই তাঁবুতে আগত প্রত্যেক আন্তর্জাতিক অতিথিকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ঐতিহ্যবাহী আরবি কফি, প্রিমিয়াম খেজুর এবং বিভিন্ন সুস্বাদু আরবীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে যা ইসলামের অতিথিপরায়ণতার মহান নীতিকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। এই প্রচারণাকে শহরের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মেক্সিকোর একটি ব্যস্ত মেট্রো টানেলের ভেতরে বিশেষ তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যেখান থেকে বিনামূল্যে হাজার হাজার মেট্রো মানচিত্র㶪তনের পাশাপাশি ইসলাম ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কিত তথ্যসমৃদ্ধ বই সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া মেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপিত ৭টি সাংস্কৃতিক তথ্যকেন্দ্রে অসংখ্য প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী সার্বক্ষণিকভাবে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং ইসলামী সভ্যতার মানবিক দিকগুলো ব্যাখ্যা করছেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই ধরণের স্বল্পমেয়াদী সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীগুলো পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রচারিত ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী কুপ্রভাব দূর করতে কতটা স্থায়ী ভূমিকা পালন করতে পারবে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক মহোৎসবকে সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দূরদর্শী একটি পদক্ষেপ যা ভুল বোঝাবুঝি দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় অবদান রাখে। ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ তাদের এই মানবিক ও শিক্ষণীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে জ্ঞান অর্জন, দয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতা হলো ইসলামের মূল ভিত্তি যা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য নিবেদিত।

banner
Link copied!