সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও পুরো বেতন পাচ্ছেন সোমালিয়ান রেফারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৪, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও পুরো বেতন পাচ্ছেন সোমালিয়ান রেফারি

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন ভঙ্গ হলেও সোমালিয়ান রেফারি ওমর আরতানকে ফিফা তাদের নির্ধারিত পুরো পারিশ্রমিক প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রয়টার্স এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানে প্রবেশে বাধা প্রদান করে এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ফেরত পাঠায়। টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে না পারলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তার পেশাদার মর্যাদার প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ অবিচল রাখার এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এই সংবেদনশীল ও অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ৩৪ বছর বয়সী এই আফ্রিকান রেফারির প্রতি ফিফার গভীর আস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

গত সোমবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর মার্কিন নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ওমর আরতানকে প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে সোমালিয়ার একটি উগ্রপন্থী সংগঠন আল-শাবাবের সাথে জড়িত এবং তদন্তাধীন কয়েকজন ব্যক্তির সাথে আরতানের কথিত যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এই নিরাপত্তার অজুহাতে তার বৈধ ট্রাভেল ভিসা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রশাসন তাকে মিয়ামিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায়। ওমর আরতান এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগটি ধীরস্থিরভাবে এবং দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেছেন যে তিনি কেবলই একজন সাধারণ পেশাদার ফুটবল রেফারি যিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নপূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঠিক কী ধরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারির বিরুদ্ধে চরমপন্থী যোগাযোগের অভিযোগ varsity বা উত্থাপন করেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় আরতানকে মিয়ামি থেকে সরাসরি তুরস্কগামী একটি বিশেষ বাণিজ্যিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর সেখানে দায়িত্বরত ফিফার প্রতিনিধিরা তাকে সব ধরণের প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করেন এবং তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যান এবং নিজের পরিবারের সাথে অবস্থান করছেন। সাধারণত বিশ্বকাপের ম্যাচ রেফারিদের মূল পারিশ্রমিক টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর তাদের ম্যাচ পরিচালনার সংখ্যার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

ওমর আরতান আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ২০২৫ সালের বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হয়েছিলেন যা তার আন্তর্জাতিক যোগ্যতা ও দক্ষতার এক বড় প্রমাণ। এছাড়া তিনি প্রথম সোমালিয়ান রেফারি হিসেবে মহাদেশীয় ক্লাব ফুটবল বা আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করার এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিলেন। গত বছরের জুন মাসে পিরামিডস এফসি এবং মামেলোদি সানডাউন্সের মধ্যকার সেই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচে তার নিখুঁত সিদ্ধান্ত ও নিরপেক্ষতা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বিশ্বকাপে তার মাঠে নামার ঐতিহাসিক সুযোগটি নষ্ট হয়ে গেলেও ফিফার এই পূর্ণ বেতন দেওয়ার মানবিক পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল রেফারিদের মাঝে এক ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। এই বৈশ্বিক সংকটকালীন সময়ে ফিফার নেওয়া সিদ্ধান্তটি ফুটবল রেফারিদের পেশাদার অধিকার রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

banner
Link copied!