নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিতের উনত্রিশ বছর বয়সী পুত্র মারিয়াস বোর্গ হয়বিকে ধর্ষণের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অসলো ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। বিচারক জন সভারড্রুপ ইফজেস্টাড সোমবার আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। ১২৮ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ রায়ে আদালত তাকে দুটি ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে অভিযোগ থাকা অন্যান্য আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে অসলো জেলা আদালতের ২৫০ নম্বর কক্ষে। মারিয়াস বোর্গ হয়বি শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে তিনি আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রসিকিউটররা তাকে সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে তার প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা আঠারো মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
মারিয়াস বোর্গ হয়বি সরাসরি কোনো রাজকীয় খেতাবধারী ব্যক্তি নন। তবে রাজকুমারী মেটে-মারিত যখন ক্রাউন প্রিন্স হাকোনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন থেকেই মারিয়াস এই পরিবারের অংশ হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। মারিয়াসের মা রাজকুমারী মেটে-মারিত বর্তমানে গুরুতর ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছেন এবং তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। মারিয়াসের আইনজীবীরা অতীতে আদালতে আবেদন করেছিলেন যাতে তাকে তার মায়ের অসুস্থতার কারণে কারাগারের বাইরে রাখা হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।
বিচারক জন সভারড্রুপ ইফজেস্টাড মামলার রায়ের সারাংশ পাঠ করে শোনান। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে যে মারিয়াস ২০১৮ সালে স্কগাম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে অসলোতে দুই নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন। এছাড়া তার সাবেক প্রেমিকা নোরা হাকল্যান্ডকে অপব্যবহার করা এবং ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অসলোর ফ্রগনার এলাকায় অন্য এক সঙ্গীর ওপর গুরুতর শারীরিক আঘাত করার দায়েও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে অন্য দুটি ধর্ষণ অভিযোগের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে।
এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ছয়জন নারীর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদের মধ্যে মাত্র একজন ভুক্তভোগী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মারিয়াস বোর্গ হয়বি শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা চারটি ধর্ষণ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। মামলার মূল ভিত্তি ছিল ভিডিও প্রমাণ যা ঘটনার সময় মারিয়াস নিজেই ধারণ করেছিলেন। ভুক্তভোগী নারী আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানিয়েছিলেন যে ঘটনার সময় তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তিনি কখনই এই ঘটনার সম্মতি দেননি। আদালতের এই রায় নরওয়ের সমাজ ও রাজপরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
