২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে পরাজিত করে দুর্দান্ত সূচনা করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর এস্তাদিও মোন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পুরো সময় জুড়ে সুইডিশ খেলোয়াড়দের আধিপত্য বজায় ছিল। গাহাম পটারের শিষ্যরা মাঠে নামার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। এই বড় জয়ে গ্রুপ এফ-এর পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে সুইডেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়রি এবং ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র সাত মিনিটের মাথায় তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইয়াসিন আয়রি প্রথম গোলটি করেন। এর পরপরই আলেকজান্ডার ইসাক দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ইসাক দুর্দান্ত এক দৌড় এবং শক্তিশালী ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে বল জালে জড়ান, যা মাঠের দর্শককে দারুণ আনন্দ দেয়।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে তিউনিসিয়ার পক্ষে ওমার রিকিক একটি গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিরতির পর সুইডেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে ভিক্টর গিওকেয়ারেস তৃতীয় গোলটি করেন। এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নামা মাতিয়াস সভানবার্গ মাঠে নামার ১২ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্রুততম গোল করার রেকর্ড গড়েন। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে ইয়াসিন আয়রি নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৫০ হাজার ৯৮৭ জন দর্শক এই গোলবন্যা উপভোগ করেছেন। আয়রি ২২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার ১৯৯০ সালের পর সুইডেনের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা হিসেবে নাম লেখালেন। ম্যাচ শেষে মাঠের পারফরম্যান্স বিশ্লেষকরা সুইডেনের এই দলটিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
তিউনিসিয়া লড়াই চালিয়ে গেলেও সুইডেনের সুশৃঙ্খল আক্রমণভাগের সামনে টিকতে পারেনি। আগামী ২০ জুন সুইডেন তাদের পরবর্তী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে হিউস্টন স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে তিউনিসিয়া তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ২১ জুন। সুইডেনের এই জয়ের পর এখন পুরো গ্রুপের সমীকরণ অনেকটাই তাদের অনুকূলে চলে এসেছে। ভক্তরা এখন দলের পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
