সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

দক্ষিণ কোরিয়ান নারীকে বর্ণবাদী মন্তব্য: ক্ষমা চাইলেন মেক্সিকান ব্যক্তি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ান নারীকে বর্ণবাদী মন্তব্য: ক্ষমা চাইলেন মেক্সিকান ব্যক্তি

মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের দিকে বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে ক্ষমা চেয়েছেন মেক্সিকোর এক নাগরিক। এই ঘটনাটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম উলিসেস ফার্নান্দো বার্নাল মিরামন্তেস। দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচের সময় তিনি দর্শক সারিতে বসে দক্ষিণ কোরিয়ান কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইউন সু-জিনের পেছনে ছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খেলা চলাকালীন সময়ে মেক্সিকান ওই ব্যক্তি চোখের কোণ টেনে ধরে বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গি করছেন এবং পরবর্তীতে তা নিয়ে হাসাহাসি করছেন। এই ধরনের অঙ্গভঙ্গি সাধারণত পূর্ব এশীয়দের জন্য অপমানজনক এবং বর্ণবাদী হিসেবে বিবেচিত হয়। ইউন সু-জিন তার নিজস্ব ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘটনার ভিডিওটি শেয়ার করলে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই মেক্সিকোর ভেতর থেকেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক মেক্সিকান নাগরিক এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং একে তাদের দেশের সংস্কৃতির বিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন। চাপের মুখে উলিসেস ফার্নান্দো বার্নাল মিরামন্তেস শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বর্ণবাদী আচরণের কারণে তিনি একটি মেক্সিকান ইঞ্জিনিয়ারিং গিল্ডের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে এই ধরনের বর্ণবাদী আচরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এমন ঘটনা দ্রুত বিশ্ববাসীর নজরে আসছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতার মুখে পড়ছেন। দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচটিতে কোরিয়া দল ২-১ গোলে জয়লাভ করে। কিন্তু খেলার মাঠের উত্তেজনার বাইরে গ্যালারিতে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বর্ণবাদবিরোধী কর্মীরা মনে করছেন যে এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্টেডিয়ামে বসে অন্যের জাতিসত্তা নিয়ে কটাক্ষ করার সাহস না পায়। বিশেষ করে যখন খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করার মাধ্যম, তখন স্টেডিয়ামের ভেতরে বর্ণবাদ কেবল গেমেরই অবমাননা নয় বরং মানবতারও লঙ্ঘন। এই ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা এবং পদচ্যুতি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

banner
Link copied!