ভারতের রাজধানী দিল্লিতে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। সরকারি এই পরিসংখ্যান নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশিত হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এই তাপ অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। গ্রিনপিস ইন্ডিয়ার সহায়তায় একটি থার্মাল ক্যামেরার মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, রাস্তার উপরিভাগের তাপমাত্রা অনেক জায়গায় ৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
সরকারি তথ্য এবং বাস্তব অবস্থার মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ হলো পরিমাপের ভিন্নতা। আবহাওয়া বিভাগ সাধারণত আদর্শ পরিবেশে বাতাস বা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা পরিমাপ করে। অন্যদিকে থার্মাল ক্যামেরার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর উপরিভাগের তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়। রাস্তা, কংক্রিট, যানবাহন এবং অন্যান্য উন্মুক্ত পৃষ্ঠগুলো বাতাসের তুলনায় অনেক বেশি তাপ শোষণ করে এবং গরম হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যেখানে ছায়া বা গাছপালা নেই, সেখানে এই তাপমাত্রা মানুষের শরীরে আরও বেশি উত্তাপ ছড়িয়ে দেয়।
গ্রিনপিস ইন্ডিয়ার গবেষক নিবেদিতা সাহা দক্ষিণ দিল্লির ব্যস্ত আইআইটি ফ্লাইওভার এলাকায় থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে তাপমাত্রা পরীক্ষা করেছেন। ফ্লাইওভারের ছায়াযুক্ত স্থানে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পাওয়া গেলেও, সরাসরি সূর্যের আলোয় থাকা বাইক আরোহীদের এলাকায় তাপমাত্রা ৬৪ ডিগ্রি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। নিবেদিতা সাহার মতে, মাত্র কয়েক ফুট জায়গা পরিবর্তন করলে তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং গাছপালার উপস্থিতিতে তাপমাত্রা অনেক কমে আসে।
চিকিৎসক এ ফাতাহুদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং তখনই বিপত্তি ঘটে। এ অবস্থায় হিট স্ট্রোকের পাশাপাশি তীব্র ঘাম, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি অঙ্গে অকার্যকারিতা এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
তীব্র গরমে সুস্থ থাকার জন্য ঘন ঘন জল পান করা, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরা এবং বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শ্রমজীবী মানুষের জন্য সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাইরে কাজ না করার সরকারি নির্দেশনা জারি করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দিল্লির দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য এই সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়।
