সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

কেন আজও মানুষের মুখে মুখে নব্বইয়ের বিশ্বকাপের গান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

কেন আজও মানুষের মুখে মুখে নব্বইয়ের বিশ্বকাপের গান

ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক উৎসব। হাজারো রঙের সমাহার, পতাকার দোল আর সুরের মূর্ছনায় মুখরিত থাকে পুরো বিশ্ব। গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বকাপের সঙ্গে মিশে আছে চোখ ধাঁধানো সব গান। আধুনিক সময়ে শাকিরা বা পিটবুলের মতো শিল্পীরা টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সংগীত গাইলেও, নব্বইয়ের দশকের বেশ কিছু গান আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে। অনেকেই সেসব গান গুনগুন করে গেয়ে ওঠেন, যার অধিকাংশের জন্ম হয়েছিল বর্তমান প্রজন্মের জন্মের অনেক আগে।

ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের গানগুলো আজও অনন্য। ইংল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড ইন মোশন কিংবা আয়ারল্যান্ডের পুট এম আন্ডার প্রেশার-এর মতো সংগীতগুলো ফুটবল ভক্তদের কাছে এক আবেগের নাম। এসব গানের কথায় ছিল একধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আর অদম্য উদ্দীপনা। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের গানের কথা ও সুর আজও বিয়ের অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজনে জনপ্রিয়। এই গানটির সুরের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিল হর্সলিপস ব্যান্ডের ডিয়ারগ ডুম নামক গিটার রিফ। আয়ারল্যান্ডের তৎকালীন ম্যানেজার জ্যাক চার্লটনের কিছু অডিও ক্লিপ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল এই কালজয়ী সংগীত।

হর্সলিপসের বেস প্লেয়ার ব্যারি ডেভলিন আয়ারল্যান্ডের সেই সংগীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, জ্যাক চার্লটনের কথাগুলো ব্যবহারের বিষয়টি ছিল এক দারুণ কৌশল। তিনি আয়ারল্যান্ডের খেলার ধরন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন যে তারা প্রতিপক্ষের ওপর তাদের খেলা চাপিয়ে দেবেন। এই বিষয়টিই গানে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। এছাড়া এই প্রকল্পের পেছনে ছিল ইউ-টু ব্যান্ডের ড্রামার ল্যারি মুলেন জুনিয়র। ল্যারি মুলেনের সেই সংগীত নির্মাণের ঘটনাটি ছিল বেশ চমৎকার।

ব্যারি ডেভলিন যখন প্রথম ইউ-টু ব্যান্ডের ডেমো রেকর্ড করছিলেন, তখন ল্যারি মুলেন ছিলেন নিতান্তই কিশোর। ডেভলিন তার স্মৃতিকথায় জানান, সেই সময় ল্যারির বয়স ছিল মাত্র সতেরো। গভীর রাতে রেকর্ডিংয়ের সময় ল্যারির বাবা স্টুডিওতে এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইতেন। তিনি বলতেন, ল্যারির পরদিন স্কুলে কাজ আছে। অথচ ডেভলিন তখনও ড্রামের শব্দ বিন্যাস শেষ করতে পারেননি। সেই কিশোর ল্যারি মুলেন পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত ড্রামারে পরিণত হন এবং বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের সংগীত প্রযোজনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিশ্বকাপের গানগুলো কেন মানুষের মনে জায়গা করে নেয়, তার উত্তর সম্ভবত সেই নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতার মাঝে লুকিয়ে আছে। প্রযুক্তিগত উন্নতির চেয়েও গানের লিরিক্স বা কথা এবং সুরের আবেদনই একটি গানকে অমরত্ব দেয়। ফুটবল এবং সংগীত—এই দুটি মাধ্যমই মানুষকে একত্রিত করে। যখন কোনো সুর ফুটবল প্রেমীদের আবেগের সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা কেবল একটি গান থাকে না, পরিণত হয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে।

banner
Link copied!