প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্ব খাদ্য আলোকচিত্র পুরস্কার ২০২৬ প্রতিযোগিতার বিজয়ী ছবিগুলো ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসি ট্রাভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবছর প্রায় ৫০টি দেশ থেকে ৯০০০-এর বেশি ছবি জমা পড়েছিল। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাবারের ভূমিকা কতটা গভীর ও বৈচিত্র্যময়, তা এই আলোকচিত্রগুলোর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে ব্যস্ত বাজার, পারিবারিক রান্নাঘর কিংবা উৎসবের আমেজ—প্রতিটি ছবি যেন এক একটি গল্পের প্রতিফলন।
প্রতিযোগিতার এবারের আসরে সামগ্রিক বিজয়ী হয়েছেন যুক্তরাজ্যের আলোকচিত্রী জো কিয়ার্নি। তাজিকিস্তানের সোভিয়েত আমলের একটি স্বাস্থ্যনিবাসে খাবারের সময়ের একটি মুহূর্ত তিনি তার ক্যামেরায় বন্দী করেছেন। ছবির বিষয়বস্তু কেবল খাবারের স্বাদ নয়, বরং স্মৃতি এবং স্থানিক গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত সেই স্বাস্থ্যনিবাসে আজও মানুষ সাধারণ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের জন্য একত্রিত হয়, যা এক সময়ের সোভিয়েত শ্রমিকদের বিশ্রামের ঐতিহ্যের ধারক।
চীনের একটি হটপট উৎসবে শত শত মানুষের অংশগ্রহণের মুহূর্তটি বন্দী করেছেন পিংইয়াও সং। তার ছবিটিতে বিশাল সামাজিক ভোজের দৃশ্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যেখানে খাবার কেবল পুষ্টি নয়, বরং উদযাপনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের আলোকচিত্রী মার্কো রুটেন কলকাতার হাওড়া ব্রিজের নিচে গঙ্গা নদীতে মৎস্যজীবীদের কর্মযজ্ঞের ছবি তুলে ধরেছেন, যা শহরের ব্যস্ত জীবনের সাথে খাবারের উৎসকে সংযোগ করেছে।
জাপানের ইন শহর থেকে অ্যালবার্ট গঞ্জালেজের তোলা একটি ছবিও সেরাদের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যেখানে মাছ সংরক্ষণের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিকে তুলে ধরা হয়েছে। উজবেকিস্তানের সমরখন্দে তন্দুরে তৈরি গরম রুটি নিয়ে পরিবারের শিশুদের মুহূর্তের ছবিটিও বিচারকদের নজর কেড়েছে। মিচেলা বালবোনি এবং ফেদেরিকো বোরেল্লার তোলা এই ছবিটি পারিবারিক বন্ধন ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিবিসি ট্রাভেলের তথ্যানুসারে, এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যসংস্কৃতির বৈশ্বিক চিত্র তুলে ধরা। কেবল মানুষ কী খায় তা নয়, বরং মানুষ কীভাবে খাবারকে তাদের দৈনন্দিন যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছে, তা-ই এই পুরস্কারের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়। ফটোগ্রাফি কেবল একটি শিল্প নয়, এটি এমন এক ভাষা যা সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জীবনধারাকে আমাদের চোখের সামনে নিয়ে আসে।
