এইচআইভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাকৃতিকভাবে এইচআইভি দমনে সক্ষম ব্যক্তিদের শরীরে রোগমুক্তির সম্ভাবনা খুঁজছেন গবেষকরা। লোরিন উইলেনবার্গ নামক একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ওষুধ ছাড়াই দীর্ঘ কয়েক দশক তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। তার শরীর এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এক অনন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।
লোরিন উইলেনবার্গের মতো ব্যক্তিদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এলিট কন্ট্রোলার বলা হয়। বিশ্বের এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ০.৫ শতাংশ মানুষ এই বিশেষ দলের অন্তর্ভুক্ত। গবেষকরা মনে করেন, তাদের শরীরের এই প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এইচআইভি নিরাময়ের চাবিকাঠি হতে পারে। লোরিন উইলেনবার্গ এ বছরের এপ্রিলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি এক অমূল্য শিক্ষা রেখে গেছেন। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যাম, এমআইটি এবং হার্ভার্ডের র্যাগন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক জু ইউ তার শরীর থেকে এইচআইভি ভাইরাস খুঁজে পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
অধ্যাপক জু ইউ জানিয়েছেন, বিলিয়ন বিলিয়ন কোষ পরীক্ষা করার পরেও লোরিন উইলেনবার্গের শরীরে এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে মানবদেহ প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে মুক্ত হতে পারে। আর্জেন্টিনায় বসবাসকারী আরেকজন রোগী, যিনি এসপেরানজা নামে পরিচিত, তিনিও এইচআইভি মুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে যে ভবিষ্যতে এইচআইভি আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জন্য একটি স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লক্ষ মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ওষুধ আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাফল্য এসেছে। ওষুধগুলো এইচআইভি ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি বন্ধ করে দেয় এবং রোগীকে এইডস থেকে রক্ষা করে। তবে এটি সম্পূর্ণ রোগমুক্তি নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ মাত্র। এলিট কন্ট্রোলারদের শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসার উন্নয়ন করতে চাইছেন। আগামী দিনে এই গবেষণা এইচআইভি নিরাময়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গবেষণার ফলাফল চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
