২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ঠিক আগে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার র্যাঙ্কিংয়ে আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে আলবিসেলেস্তেরা তাদের হারানো গৌরব ফিরে পেয়েছে। ফ্রান্স তাদের প্রীতি ম্যাচে আইভরিকোস্টের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হওয়ায় এবং স্পেন ইরাকের সাথে ১-১ গোলে ড্র করায় পয়েন্ট হারিয়েছে। এই সুযোগেই আর্জেন্টিনা র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় আরোহণ করেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এই অবস্থান সমর্থকদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ইতিহাসভিত্তিক একটি পরিসংখ্যান তাদের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অস্বস্তিকর ইতিহাস। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেখা গেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে দল র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকে, তারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়েছে। ফুটবল প্রেমীদের কাছে এটি একটি অভিশাপ হিসেবেই পরিচিত। এই ধারার সূত্রপাত ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে। তখন শীর্ষে ছিল জার্মানি, কিন্তু তারা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। এরপর ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়। ২০০২ সালে এক নম্বরে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছিল।
পরবর্তী প্রতিটি বিশ্বকাপেই এই অদ্ভুত ধারা অব্যাহত ছিল। ২০০৬ ও ২০১০ সালে ব্রাজিল শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও শিরোপা জিততে পারেনি। একইভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে স্পেন এবং জার্মানি শীর্ষে থেকে মাঠে নেমেছিল, কিন্তু তারা যথাক্রমে গ্রুপ পর্যায় এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও শীর্ষস্থান হারিয়েছিল ব্রাজিল, যেখানে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা এখন একদিকে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে থাকলেও, অন্যদিকে অতীতের এই পরিসংখ্যান তাদের সমর্থকদের মনে নতুন করে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং তার শিষ্যরা এখন এই ইতিহাসকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে তাকাতে চান। ফুটবল বিশ্বের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, র্যাঙ্কিং কেবল একটি পরিসংখ্যান মাত্র, মাঠের পারফরম্যান্সই আসল। আর্জেন্টিনা টানা গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে এবং বর্তমান স্কোয়াডটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। তবে ইতিহাস কি এবারও পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি আর্জেন্টিনা সেই অভিশাপ ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখবে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত।
প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে আর্জেন্টিনা দল এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখার জন্য প্রস্তুত। প্রীতি ম্যাচের ফলাফলগুলো তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলেও, বিশ্বকাপের মূল আসরে চ্যালেঞ্জ হবে ভিন্ন। ইতিহাস আর বর্তমান ফর্মের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা কতটা অটল থাকতে পারে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগ পর্যন্ত। আলবিসেলেস্তেরা কি তাদের আধিপত্য বজায় রেখে শিরোপা ঘরে তুলবে, নাকি ফুটবল বিশ্বের সেই প্রাচীন অভিশাপ আজও অটুট থাকবে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।
