শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে অরুণাচলে ১৫টি মসজিদ সিলগালা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে অরুণাচলে ১৫টি মসজিদ সিলগালা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার, এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী। অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন বা এপিআইওয়াইও-এর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে ও তাদের ক্রমবর্ধমান চাপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত কথিত অবৈধ দখল এবং যথাযথ অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় স্থাপনা তৈরির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।

রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা সংবাদমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর সঙ্গে এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকের মাধ্যমেই বিষয়টি প্রথম সরকারের নজরে আনা হয়। এরপরই সরকার জেলা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স এলাকায় যেসব ধর্মীয় স্থাপনা কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই নির্মিত হয়েছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য। একটি সরকারি জরিপের মাধ্যমে ওই এলাকায় মোট ১৫টি অননুমোদিত স্থাপনা শনাক্ত করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পি ডি সোনা ব্যাখ্যা করেন যে, প্রশাসন প্রথমে ১২টি স্থাপনা খালি বা সিল করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছিল। বাকি তিনটি স্থাপনার বিষয়ে ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে আরেকটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তিনটি স্থানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার আগে সংগঠনগুলো প্রশাসনিক আলোচনার পথকেই প্রাধান্য দেবে।

এই ঘটনার পর অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, অরক্ষিত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং এসব এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরন্তর নজরদারি প্রয়োজন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর ডাকা একটি উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শমূলক বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

উক্ত বৈঠকে ছাত্র সংগঠন, আদিবাসী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং আইন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আদিবাসী অধিকার রক্ষা, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক উদ্বেগ এবং ইনার লাইন পারমিট ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো নিরসনের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে ইটানগরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সিলগালা করার ঘটনাটি ওই অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে প্রভাব ফেলছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আদিবাসী অধিকার ও নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো প্রায়ই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে সরকার কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদী নীতি গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, অনুমোদনের বাইরে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা দখল মেনে নেওয়া হবে না।

banner
Link copied!