শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস আরব আমিরাতের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস আরব আমিরাতের

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী এই আশ্বাসের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাষ্ট্রদূতকে জানান যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য উৎস। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান অস্থিরতা এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই কাঠামোর আওতায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী স্পট মার্কেটের অস্থিরতা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিডকে আধুনিকীকরণ, কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং স্বয়ংক্রিয় সাব-স্টেশন নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলোতে কারিগরি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার প্রস্তাব দেন তিনি। বন্দরের কাছাকাছি জ্বালানি বাঙ্কানিং সুবিধা তৈরি এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমিরাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ব্যাপারেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে তাদের দেশে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের একটি বড় কেন্দ্র বা হাব তৈরি করছে। প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানান যে, বাংলাদেশও একইভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী সার কারখানা এবং ভারী ইস্পাত শিল্পকে গ্রিন হাইড্রোজেন বা গ্রিন অ্যামোনিয়ায় রূপান্তর করতে আগ্রহী। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আমিরাতের বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের শিল্প খাতের আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ধাবিত হওয়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে তার দেশের সরকারের দৃঢ় আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তিনি দুই দেশের এই ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমিরাত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্র পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!