যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখতে পারে—এমন জোরালো পূর্বাভাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। গত শুক্রবার মূল্যবান এই ধাতুর দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতা ও নীতিগত কড়াকড়ির আশঙ্কায় এই মন্দা ভাব দেখা গেল।বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দরপতনের মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বৈশ্বিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫০২ দশমিক ৮৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মার্কেট বা আগাম বাজার দর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৫৩৩ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক নতুন উত্তেজনার কারণে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই জ্বালানি ও অর্থনৈতিক মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়তি রাখতে বাধ্য হতে পারে, যা স্বর্ণের বাজারে এক ধরনের নেতিবাচক চাপ তৈরি করেছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের প্রধান বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রত্যাশা স্বর্ণের মূল্যের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন বন্ডের ইল্ড বা লভ্যাংশ বৃদ্ধি যদি অবিলম্বে বন্ধ না হয় এবং সামগ্রিক সুদের হার স্থিতিশীল অবস্থায় না আসে, তবে স্বর্ণের এই ধীর গতি আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের কথা রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা আগামী দিনের সুদের হারের বিষয়ে নতুন মন্তব্য করতে পারেন। সাধারণত সুদের হার কমলে বা স্থিতিশীল থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম দ্রুত বাড়ে, তাই বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন লক্ষ্য করা গেলেও রুপার দাম আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৬১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
