রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদুল আজহার প্রস্তুতির ব্যস্ততায় ঢাকার কামারশিল্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৪, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

ঈদুল আজহার প্রস্তুতির ব্যস্ততায় ঢাকার কামারশিল্প

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের ঝলকানি আর হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে এখন মুখর রাজধানীর কামারপল্লিগুলো। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ছুরি, চাপাতি ও বঁটি তৈরির ব্যস্ততায় দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। কুরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি এবং পুরোনো জিনিসে ধার দিতে নগরবাসী ভিড় করছেন কামারশালায়।রাজধানীর প্রতিটি কামারশালা এখন ব্যস্ততায় ঠাসা।

কারিগররা জানিয়েছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই ঈদকে ঘিরেই তাদের ব্যবসা সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে। তবে এবার কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। লোহা, কয়লা, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক খরচ বাড়ায় আগের তুলনায় সরঞ্জাম তৈরির দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা। বাজারে মাঝারি মানের জবাইয়ের ছুরির দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং উন্নত মানের স্টীল ছুরির দাম ৪ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজার এলাকার কামার সোহেল কর্মকার জানান, ঈদের আগে এখন দম ফেলার সময় নেই। অনেক সময় রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। সোহেল বলেন, নতুন সরঞ্জামের পাশাপাশি পুরোনো জিনিসেও শান দেওয়া হচ্ছে। তবে লোহা ও কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে আগের মতো খুব বেশি লাভ থাকছে না।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিদেশি পণ্যের আধিপত্য বাড়লেও কোরবানির ঈদ এলেই এই সনাতন শিল্পের নতুন প্রাণ ফিরে আসে। তরুণ কারিগর থেকে শুরু করে বয়স্ক কারিগররা—সবাই এখন সমানতালে কাজ করছেন। বছরের এই একটি সময়ের আয়ের ওপরই অনেক কারিগরের সংসার নির্ভর করে, তাই ক্লান্তি ভুলে ঈদের মৌসুমকে ঘিরে তাদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির ছাপ।

কারিগরেরা বলছেন, পরিশ্রম বেশি হলেও ঈদের এই ব্যস্ততাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। তারা এখন কেবলই কাজের নেশায় মগ্ন।

banner
Link copied!