রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার মধ্যে একটি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে রয়টার্স এবং এএফপি নিশ্চিত করেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে মস্কো ও দামেস্কের মধ্যকার রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ফোনালাপের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি মস্কোর দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে সিরীয় সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের বিদেশি হামলা ও আগ্রাসন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রুশ প্রশাসন। সানা বার্তা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে যে দুই নেতা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল খেমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তার্তুস নৌঘাঁটির ভবিষ্যৎ মর্যাদা, যা রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত আগস্ট মাসের নয় তারিখে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই ঘাঁটিগুলোকে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সিরিয়া উভয় ঘাঁটির বেসামরিক সুবিধার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে বলে পূর্বে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন সিরীয় সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটিগুলো মস্কোর নিকট প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যা এখনও স্পষ্ট নয় তা হলো নতুন এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘ তেরো বছরের গৃহযুদ্ধে সাবেক আসাদ সরকারকে সামরিকভাবে সহায়তা করেছিল রাশিয়া। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সাথে নতুন সমীকরণে এই সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
