ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরের তলদেশ থেকে প্রায় আটাত্তর বছর আগে ডুবে যাওয়া আলতালেমা জাহাজের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের পর দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তেলআবিবের সমুদ্রসৈকতে অবস্থিত যাদুঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে এই জাহাজটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মারক হিসেবে তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গৃহযুদ্ধের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনকে সামনে নিয়ে এসেছেন। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিক এই রাজনৈতিক উত্তেজনার আড়ালে ইসরায়েলি সমাজে উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সামরিক শক্তির বিষয়ে একটি গভীর ও সুদৃঢ় ঐকমত্য রয়েছে।
উনিশশো আটচল্লিশ সালে ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ডানপন্থি আধাসামরিক বাহিনী ইৎজেল বা ইরগুন পরিচালিত আলতালেমা জাহাজটি প্রচুর অস্ত্র ও অভিবাসী নিয়ে এসেছিল। তৎকালীন বামপন্থি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে হামলা চালায়। সেই ঘটনাকে ডানপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নির্বাচনের ঠিক আগে এই প্রতীককে পুনরুজ্জীবিত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একধরনের প্রচ্ছন্ন বার্তা দিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ইসরায়েল সত্যিই কোনো গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে দেশটির মূল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে মৌলিক কোনো আদর্শগত বিরোধ নেই। ইসরায়েলি জনজীবনে নিরাপত্তা এবং ইহুদি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের নীরব সমঝোতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদ। যতক্ষণ পর্যন্ত এই কাঠামোগত ঐকমত্য অটুট থাকবে, ততক্ষণ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বৈরথ যতই তীব্র হোক না কেন, তা কখনো প্রকৃত গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে না। সাধারণ মানুষ নেতার ব্যক্তিগত নীতি অপছন্দ করলেও ফিলিস্তিন নীতি ও সামরিক আগ্রাসনের প্রশ্নে রাষ্ট্রের মূল স্রোতের সঙ্গেই অবস্থান করছে।
