মার্কিন সামরিক আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর আগামী দুই হাজার আটাশ সালের জুন মাসে নাইন-ইলেভেন হামলার মূল অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তাঁর তিন সহ-আসামীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। এয়ার ফোর্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল স্ক্রামা বুধবার এই শুনানির সময়সূচি ঘোষণা করেন, যেখানে আগামী দুই হাজার আটাশ সালের জুন মাসের পাঁচ তারিখে বিচার কার্যক্রম শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই আইনি পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়, যার মাধ্যমে এর আগের সমঝোতা চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়েছে। এর আগে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর শর্তে দোষ স্বীকারের চুক্তি করলেও মার্কিন আপিল আদালত সেই সমঝোতা বাতিল করে দেয়। মূলত সিআইএ-র গোপন কারাগারে আটক থাকার সময় বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে সংগৃহীত প্রমাণের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে আইনি বিতর্ক চলে আসছে। বিচারক স্ক্রামা এর আগে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দুই হাজার সাতাশ সালের শুরুর দিকে বিচার শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বিচারক স্ক্রামা উল্লেখ করেছেন যে পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রি-ট্রায়াল এবং প্রমাণের বৈধতা সংক্রান্ত আইনি নোটিশগুলোর সুরাহা করা সম্ভব হবে না। ফলে একটি বাস্তবসম্মত বিচার তারিখ নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। অভিযুক্তদের এই তালিকায় খালিদ শেখ মোহাম্মদ ছাড়াও ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, মুস্তাফা আল-হাওসাবি এবং আলী আব্দুল আজিজ আলী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি জুরি বোর্ডের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।
জুরি নির্বাচনের ৩০ দিন পর সূচনা বক্তব্য এবং প্রসিকিউটরদের যুক্তি উপস্থাপনের ৬০ দিন পর থেকে আসামিপক্ষের আইনি কার্যক্রম শুরু হবে। বিচার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। দুই হাজার চতুর্বিংশ সালে অভিযুক্তদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সেই চুক্তি বাতিল করার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া নতুন মোড় নেয়।
নাইন-ইলেভেন হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত খালিদ শেখ মোহাম্মদ দুই হাজার তিন সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হন। দীর্ঘ তিন বছর সিআইএ-র গোপন কারাগারে বন্দি থাকার পর তাঁকে দুই হাজার ছয় সালে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ দুই দশকের এই দীর্ঘসূত্রিতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
