যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু করেছেন বলে আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জিসিম আল থানি বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করছেন। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং আটকে থাকা আলোচনা পুনরায় চালুর লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালী বেশিরভাগ সময় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চলতি সপ্তাহে তেহরান সফর করে শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওমানের সঙ্গে তেহরানের আলোচনায় প্রণালীতে একটি অস্থায়ী শিপিং রুট চালুর বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের গতি কিছুটা মন্থর হলেও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। ওয়াশিংটন নতুন করে ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী সপ্তাহ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোতে কূটনীতিকদের উপস্থিতি স্বাভাবিক করা শুরু হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের স্বার্থ রক্ষা করে শক্তিধর অবস্থান থেকে আলোচনায় বসার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক এই তৎপরতা সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
