সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক বৈঠক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক বৈঠক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী সপ্তাহে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে দ্বিবার্ষিক মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলন। নয়াদিল্লির একটি নির্দিষ্ট বিএসএফ ঘাঁটিতে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

চার দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে আয়োজক দেশ ভারতের পক্ষ থেকে বিএসএফের মহাপরিচালক প্রভীন কুমার এই শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব প্রদান করবেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসন্ন এই বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো প্রধান আলোচ্যসূচির অংশ হতে পারে। দুই দেশের সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ পেট্রোলিং বৃদ্ধির ওপর এই সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে আগামী ১১ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চূড়ান্ত যৌথ আলোচনাপত্র বা কার্যবিবরণী স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলার ঘটনা, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং ড্রোন অনুপ্রবেশের মাধ্যমে আকাশসীমা লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো জোরালোভাবে উত্থাপন করা হতে পারে। একই সঙ্গে আটককৃত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হস্তান্তরে বিলম্বের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করবে ভারতীয় পক্ষ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের কথিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং নির্যাতনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দেশের সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে নিজস্ব এজেন্ডা নিয়ে টেবিলে বসবেন।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত আলোচনা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সাল থেকে এই ব্যবস্থাকে দ্বিবার্ষিক করা হয়, যার ফলে উভয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি এবং ঢাকায় এই সীমান্ত বৈঠকের আয়োজন করে আসছেন। দুই বাহিনীর মধ্যে সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠকটি গত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যখন বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিল। সেই সময় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ, মানব পাচার বন্ধ এবং সীমান্তবাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছিল।

আসন্ন এই সীমান্ত বৈঠকটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভারত কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করবে না এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সুর শোনা গেছে পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলাতেও, যার সরকার ইতোমধ্যে সীমান্তে শক্তিশালী বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে বিশাল পরিমাণ জমি হস্তান্তর সম্পন্ন করেছে। উল্লেখ্য, চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় অবস্থিত, যার সুরক্ষায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

banner
Link copied!