ঈদ মানেই আনন্দ এবং নানা রকমের ভারী মসলাদার খাবারের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। তবে এই আনন্দের আবহে অতিরিক্ত মাংস খেয়ে অনেকেই এখন নানাবিধ মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন। পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া এবং তীব্র বদহজমের মতো সমস্যাগুলো এই সময়ে ঘরে ঘরে বেশ সাধারণ এক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, উৎসবের দিনগুলোতে পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণিজ প্রোটিন একসঙ্গে গ্রহণ করার ফলেই পরিপাকতন্ত্রে এই তীব্র অস্বস্তির সৃষ্টি হয়।পেটের এই আকস্মিক অস্বস্তি দূর করা সম্ভব।
শারীরিক জটিলতা ও হজমের এই তীব্র সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু বিশেষ হাইড্রেটিং ফল ও সহজপাচ্য সবজি রাখা জরুরি। এই সময়ে নিয়মিত তরমুজ খাওয়া অত্যন্ত উপকারী কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং পরিপাক প্রক্রিয়াকে দ্রুত সচল করতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি পাকা কলা পেটের আরামদায়ক ফল হিসেবে দারুণ কাজ করে, কারণ এর পটাশিয়াম শরীরের অ্যাসিডের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। আঁশ কম ও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় বাঙ্গিও সহজে হজম হয় এবং এর ভিটামিন সি শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ করে তোলে।
টানা কয়েকদিন ভারী মাংসের খাবারের পরিবর্তে আলু সেদ্ধ বা খোসা ছাড়ানো আলুর নরম ভর্তার মতো হালকা খাবার খাওয়া উচিত যা পেটের দেয়ালের জন্য আরামদায়ক। হলুদ ক্যাপসিকামও ভারী খাবারের ধকল সামলে শরীরকে স্বাভাবিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এই সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পানের পাশাপাশি ভারী খাবার গ্রহণের পর অন্তত ১০ মিনিট সাধারণ গতিতে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ছোট ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো পাকস্থলীকে সক্রিয় রাখে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।
