মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বাজার খোলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ওভাল অফিসের নেওয়া কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এই নতুন ধাক্কা লেগেছে।বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের জেরে ও সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আশায় বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে, যার ফলে গত সোমবার তেলের দাম কমে প্রায় ৯৭ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, নতুন করে ওয়াশিংটন-তেহরান বাকযুদ্ধ শুরু হতেই বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান সরবরাহ রুটগুলো আংশিক বন্ধ থাকায় বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তির তেল মজুত বা রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আসন্ন পশ্চিমা গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম, যে সময়ে ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। চাহিদার এই আকস্মিক বৃদ্ধি এবং সরবরাহ লাইনের সংকীর্ণতা তেলের দামকে ওপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জ্বালানি বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইচএফআই রিসার্চ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক জটিল স্তরে পৌঁছেছে যেখান থেকে খুব দ্রুত তেলের বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা কঠিন হবে। যদি হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
