ফ্রান্সের ওয়াইন শিল্প তীব্র দাবানল এবং রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইউরোপের বৃহত্তম এই ওয়াইন রপ্তানিকারক দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আঙুর চাষ ও কৃষি খাত চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ সময় পার করেছে, যা এল নিনো আবহাওয়া ঘটনার কারণে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মে মাসের তীব্র দাবদাহের পর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে আঙুর খুব দ্রুত পেকে যাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক অম্লতা কমিয়ে ওয়াইনের অ্যালকোহলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তীব্র শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজিরবিহীন আকারে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত চার লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার হেক্টর জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমের বোরদো সংলগ্ন গিরোন্দ অঞ্চলে উৎপত্তিলাভ করা দাবানল প্যারিসের আয়তনের প্রায় চার গুণ এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে, যা উনিশশো উনপঞ্চাশ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রায় দুই লক্ষ বিশ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। লান্দে, ভার, ওদ এবং এরো অঞ্চলের পাইন বনগুলো এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরদোর নিকটবর্তী সোম্যুসসহ দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনও ছোট পরিসরে আগুন সক্রিয় থাকলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ফ্রান্সে এই ধরনের সামুদ্রিক ও দাবানল সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ঐতিহ্যবাহী ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চলগুলোর এই বিপর্যয় দেশটির অর্থনীতি এবং কৃষিখাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
