সপ্তাহান্তে কর্মব্যস্ত সপ্তাহের ক্লান্তি দূর করতে অতিরিক্ত এক বা দুই ঘণ্টা ঘুমানো উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক কংগ্রেসে উপস্থাপিত নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এতদিন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা কাজের দিন ও ছুটির দিনে ঘুমের সুনির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখার পরামর্শ দিলেও এই সাম্প্রতিক গবেষণাটি সেই প্রচলিত ধারণাকে নতুন আলোয় বিচার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার চল্লিশ হাজার সাতশো সাতাশ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর দুই হাজার ষোলো থেকে দুই হাজার তেইশ সাল পর্যন্ত পরিচালিত সাত বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে কর্মদিবসের পর সপ্তাহের ছুটির দিনে অতিরিক্ত ঘুমানো মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রাদুর্ভাব কম থাকে। তবে এই উপকারিতা অর্জনের জন্য অতিরিক্ত ঘুমের পরিমাণ নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকা প্রয়োজন, যা সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা এবং যার অনুকূল বৃদ্ধি প্রায় এক ঘণ্টা সাঁইত্রিশ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে এই অতিরিক্ত ঘুমের ফলে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা প্রায় ছয় শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা কম সক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুফল আরও বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি প্রায় সাত শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। যারা সপ্তাহান্তে নির্দিষ্ট প্রায় এক ঘণ্টা সাঁইত্রিশ মিনিট অতিরিক্ত ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির হার প্রায় নয় শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বর্তমান বিশ্বে ত্রিশ থেকে উনসত্তর বছর বয়সী প্রায় একশ চল্লিশ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ।
সিউলের কোরিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক নাওয়োন লি এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে জানান যে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়, যার ফলে হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীগুলোকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুমালে অপরাধবোধে ভোগার কোনো কারণ নেই, কারণ এটি শরীরের ঘুমহীনতা কাটিয়ে ওঠার একটি প্রাকৃতিক উপায় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমালে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ব্যাহত হতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।
