যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাসেরও বেশি সময় পর ইরানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নীতিগত কোনো ছাড় না দিয়ে নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও দেশটির নয় কোটি নাগরিকের জন্য জীবনধারণ একটি কঠিন লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বিগত ফেব্রুয়ারি মাসের আটাশ তারিখে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলার পর থেকে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনীতিতে নজিরবিহীন আঘাত এসেছে।
দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় উননব্বই শতাংশে পৌঁছেছে এবং খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে একশত সাতাশ শতাংশেরও বেশি।
মুদ্রাবাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ইরানের খোলা বাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের মান রেকর্ড বিশ লাখ ষাট হাজারে নেমে এসেছে। অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও পেশাজীবীদের প্রকৃত আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করেছে।
তেল ও গ্যাস শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গোটা দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি তীব্র রূপ নিয়েছে।
আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য নির্ধারিত জ্বালানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করার একটি সমঝোতার কথা বলা হলেও ওয়াশিংটন এতে সম্মতি দেয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে তেহরানকে ব্যাপক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে স্বীকার করেছেন যে সরকার গুরুতর আর্থিক সংকট মোকাবেলা করছে এবং তেল বিক্রি করতে না পারার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সাথে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সামাজিক সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
