শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নাইরোবিতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

নাইরোবিতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও আল জাজিরা। শুক্রবার এই বিক্ষোভের কারণে শহরের কেন্দ্রস্থলের শত শত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ব্যবসায়িক খরচে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

কেনিয়া রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি বারো মিটার বা চল্লিশ ফুটের সমন্বিত কনটেইনারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্ক মূল্যায়ন পঁচিশ লাখ কেনিয়ান শিলিং বা উনিশ হাজার তিনশো বিশ ডলার থেকে বাড়িয়ে বত্রিশ লাখ কেনিয়ান শিলিং বা চব্বিশ হাজার সাতশো ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের প্রতিটি কনটেইনারের জন্য অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ হাজার ডলারের বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, আমদানিকৃত পণ্যের অবমূল্যায়ন ও ভুল তথ্য প্রদান প্রতিরোধ করার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন যে, অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কেনিয়ায় ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ চলাকালে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা জানান যে, তারা তাদের নাগরিক অধিকার ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য রাস্তায় নেমেছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকে দোকান বন্ধ রাখলেও শত শত ব্যবসায়ী সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে যোগ দেন। আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো যখন কেনিয়ার নাগরিকরা জীবনযাত্রার চরম ব্যয়ভার নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের দুর্নীতি আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।

রাজস্ব কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে বত্রিশ লাখ শিলিং হলো একটি ন্যূনতম মূল্যায়ন সূচক এবং এটি প্রতিটি কনটেইনারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী ফি নয়। যেসব আমদানিকারকের পণ্যের মূল্য এই সীমার চেয়ে বেশি, তাদের প্রকৃত মূল্য ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য হলো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আমদানি খরচ কমানোর জন্য যৌথভাবে কনটেইনার ব্যবহার করেন এবং এই নতুন শুল্ক কাঠামোর সরাসরি আঘাত তাদের ওপরই পড়বে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।

banner
Link copied!