বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সাম্প্রতিক প্রলয়ঙ্কারী ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট একটি বিশাল কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে ভাটির দিকে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। গত বুধবার ওই একই অঞ্চলে একটি পাহাড়ি হিমবাহ ধসে নদীতে পড়ার কারণে যে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন সতর্কতা জারি করা হলো। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটি তার ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অস্থায়ী বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই সীমান্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রথম বন্যার আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগে নিশ্চিত করেছিল যে, প্রথম দফার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কমপক্ষে ৫৪৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় এক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের এই দীর্ঘ তালিকায় ভারতের প্রায় তিনশো নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত কৈলাস পর্বতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রায় বের হয়েছিলেন। নতুন করে বন্যা দেখা দিলে উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হবে এবং প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই কৃত্রিম হ্রদটি মূলত তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি একটি বিশাল ভূমিধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ আটকে গিয়ে তৈরি হয়েছে। হ্রদের বিপুল জলরাশি যদি মাটি ও পাথরের এই অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে ফেলে, তবে তা তীব্র স্রোতে নেপালের ভাটি অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসবে। এর ফলে রসুয়া, নুয়াকোট এবং চিতওয়ান জেলার আগে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, সেতু ও লোকালয়গুলো আরও একবার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়বে। এমন আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বর্তমানে নেপালের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর প্রায় পনেরো হাজার সদস্য দুর্গম এই অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবং লাগাতার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, উঁচু পর্বতমালা থেকে বিশাল বরফখণ্ড ও পাথর খসে পড়ার কারণেই মূলত এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে লহেন্দে খোলা এবং ভোতে কোশি নদীর পানি প্রবাহকে রুদ্ধ করে দেয়। এখন সেই ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার বাঁধের পেছনে আটকে থাকা পানির বিশাল স্তর পুরো উপত্যকার জন্য এক নতুন ও ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবেলায় দুই দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি নিউজ।
