শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপাল সীমান্তে বন্যায় বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

নেপাল সীমান্তে বন্যায় বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ

বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের অনেকেই কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। নেপাল সরকারের আনুষ্ঠানিক তালিকায় মোট ৫৩৭ জন নিখোঁজ ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪৭৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রলয়ঙ্কারী এই বন্যার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কলকাতার বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ শুভ্রশ্রী চক্রবর্তী এবং ৫৪ বছর বয়সী গৃহশিক্ষক রীনা ব্যানার্জিও এই নিখোঁজদের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন। তারা উভয়ই প্রায় ৩০ জনের একটি তীর্থযাত্রী দলের অংশ হিসেবে যাত্রা করেছিলেন। বিগত কয়েক বছর ধরে কৈলাস পর্বত দর্শনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। করোনা মহামারী এবং ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দীর্ঘদিন এই যাত্রা বন্ধ থাকার পর গত বছর তা পুনরায় শুরু হয়।

শুভ্রশ্রীর স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বুধবার সকাল আটটা তিনে তার স্ত্রীর কাছ থেকে সর্বশেষ বার্তাটি আসে। ওই বার্তায় শুভ্রশ্রী জানিয়েছিলেন যে তারা চীনে প্রবেশের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই অঞ্চলে প্রলয়ঙ্কারী বন্যা আঘাত হানে। সুদীপ্ত আরও জানান, তার স্ত্রী শারীরিকভাবে অত্যন্ত সুস্থ ছিলেন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানেও অভিজ্ঞ ছিলেন। তবে গত কয়েক দিনে চীনা বা নেপালি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিখোঁজদের সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

একই দলের আরেক সদস্য রীনা ব্যানার্জির পরিবারও গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার ভাতিজা দ্বৈপায়ন মুখার্জি জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুতে থাকার সময় রীনার সাথে তাদের ভিডিও কলে কথা হয়েছিল এবং তিনি এই যাত্রা নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। নেপালের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর ট্যুর অপারেটরের পক্ষ থেকে একটি গ্রুপ ছবি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রীনাকে দেখা গিয়েছিল।

এরপর থেকে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, এই তীর্থযাত্রীরা কাঠমান্ডু থেকে বাসে করে ১২২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সায়াব্রুবেসি নামক একটি পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছেছিলেন। যাত্রা পথে ভূমিধসের কারণে তারা প্রায় চার ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে আবহাওয়া ভালো থাকায় সেনা সদস্যরা রাস্তা পরিষ্কার করার পর তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। নেপালের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তীর্থযাত্রীদের পায়ে হেঁটে চীনা ইমিগ্রেশন কেন্দ্র গুইরং-এর দিকে যাওয়ার কথা ছিল।

নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, বন্যা আঘাত হানার ঠিক আগে বা সেই সময়ে তারা চীনা সীমান্তে অবস্থান করছিলেন। তবে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। নিখোঁজদের পরিবারগুলো এখন দুই দেশের সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ ও হতাহতদের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহের আবেদন জানাচ্ছেন।

banner
Link copied!