শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রাম্পের নির্দেশে লেক ওন্টারিওর নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

ট্রাম্পের নির্দেশে লেক ওন্টারিওর নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা

রয়টার্স ও আল জাজিরা-এর তথ্যমতে, কানাডার সাথে চলমান তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক নির্বাহী আদেশে লেক ওন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত এই বিশাল হ্রদটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে, কানাডার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্যায্য আচরণ করছেন এবং এর প্রতিবাদস্বরূপ তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভৌগোলিক নাম নির্ধারণী বোর্ড পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে এই আদেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন উভয় দেশের মধ্যে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগামী আট সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শুল্ক আরোপের এই পাল্টা পদক্ষেপ দুই দেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

ট্রাম্পের এই নাম পরিবর্তনের আদেশ কানাডায় তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্পের এই নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই হ্রদের নাম চারশো বছরের বেশি পুরনো, যা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। কানাডার নাগরিকরা একে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে চিরকাল লেক ওন্টারিও হিসেবেই জানবেন বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। ওন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এবং নোভা স্কোটিয়া প্রদেশের প্রিমিয়ার টিম হিউস্টনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই আদেশের বিরোধিতা দেখা গেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল নিশ্চিত করেছেন যে, তার অঙ্গরাজ্য এই হ্রদকে নতুন নামে ডাকবে না। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক ডেরেক অ্যালডারম্যান আল জাজিরা-কে জানিয়েছেন, এই নাম পরিবর্তন আদিবাসী হুরন সম্প্রদায়ের ইতিহাস মুছে ফেলার একটি চেষ্টা। ওন্টারিও শব্দটি মূলত আদিবাসীদের ওয়েনডাট ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ চকচকে পানির হ্রদ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো একক কর্তৃপক্ষ নেই যারা বিশ্বব্যাপী এই ধরনের একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক ব্যুরো এবং জাতিসংঘের ভৌগোলিক নাম বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নাম প্রমিতকরণের কাজ করলেও, তারা কোনো দেশের ওপর নতুন নাম প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে না। ফলে ট্রাম্পের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার বা মানচিত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও আন্তর্জাতিকভাবে বা কানাডার ভেতরে এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে গালফ অব আমেরিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় গুগল ম্যাপস যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য মেক্সিকো উপসাগরের নামের পাশে নতুন নামটি যুক্ত করেছিল। তবে লেক ওন্টারিওর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং কানাডা তাদের নিজস্ব পুরনো নাম ব্যবহার অব্যাহত রাখবে বলে কানাডার কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়েছেন।

banner
Link copied!