পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে সামরিক স্থাপনা ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে কয়েক ঘণ্টার তীব্র সংঘাতের পর একটি সেনা বিদ্রোহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার, আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে। শনিবার গভীর রাতে দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত অন্যতম প্রধান সামরিক কেন্দ্র বেস ১০১-এ এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। একদল বিদ্রোহী সেনা তাদের সহকর্মীদের আটক করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণ ঘটায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যানুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ সময় কয়েক ডজন বিদ্রোহী সেনা নিহত বা গ্রেপ্তার হয়।
রাজধানী নিয়ামেতে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ বড় ধরনের ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঠেকিয়ে দিয়েছে।
বিদ্রোহে অংশ নেওয়া সেনারা প্রধানত ওয়ালাম, তেরা ও দোসোর মতো প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলের সম্মুখসারির যোদ্ধা বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওইসব অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ায় সেনাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। দেশটির সামরিক নেতা জেনারেল আব্দুর রাহমানে চিয়ানির অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সালিফু মদি জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিন বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর নাইজারের সামরিক সরকার পশ্চিমা দেশগুলো ও ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তোলে। বিমানবন্দর সংলগ্ন এই ঘাঁটিতে রাশিয়ার আফ্রিকা কোর এবং নাইজার, মালি ও বুর্কিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত সাহেল জোটের যৌথ বাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিক্টর ভোরোপায়েভ জানিয়েছেন, বিদ্রোহীদের দমনে রাশিয়ার আফ্রিকা কোরের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।
সাহেল জোটের পক্ষ থেকে এই বিদ্রোহকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করে জান্তা সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে, অন্যদিকে আলজেরিয়া ও তুরস্কও নাইজারের স্থিতিশীলতার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছে। রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও তল্লাশি চৌকি বসিয়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী, উম্মাহকণ্ঠ ডট কম যাচাই করেছে।
