নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে একটি বিদ্যালয় ভবন সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে নয়শত শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা করেছেন এক প্রধান শিক্ষক, বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে। রাজেন্দ্র দাওয়াদি নামের ওই প্রধান শিক্ষক আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীব্র স্রোতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী বাজার প্লাবিত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, তারা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর মাত্র দশ সেকেন্ডের ব্যবধানে পানির তোড়ে চারপাশ ভেসে যেতে দেখেন।
হিমালয় অঞ্চলের এই বিধ্বংসী বন্যায় সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নেপালে অন্তত ৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই হাজার পাঁচশ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অপরদিকে তিব্বত অংশে ১৬ জনের প্রাণহানি এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের উদ্ধারে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
পাহাড়ি নদী ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিপজ্জনক সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেপালের পর্যটন কেন্দ্র ও সীমান্ত এলাকায় শত শত বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তাদের অন্তত ৩২০ জন নাগরিকের কোনো সন্ধান মিলছে না। চীন সরকারের তথ্যানুযায়ী নেপালে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ৯০ জন নাগরিক এখনও নিখোঁজ থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া মালয়েশিয়ার ৫১ জন, ইউক্রেনের ৬২ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ৩০ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকার খবর সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ভ্রমণকারীও দুর্যোগের কবলে পড়েছেন।
উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টার ও জলযানের মাধ্যমে দুর্গত এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে, উম্মাহকণ্ঠ ডট কম যাচাই করেছে।
