রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে তীব্র খরার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে দেশদুটির পাল্টাপাল্টি হামলায় শস্য রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গম রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া এবং শীর্ষ দশ গম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় থাকা ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বন্দর ও শস্য টার্মিনালগুলোতে হামলা জোরদার হয়েছে।
গত শুক্রবার শিকাগো গম ফিউচার্স বাজারে গমের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে সোমবার গ্রীনিচ মান সময় ভোর দুইটায় দাম সামান্য হ্রাস পেয়ে প্রতি বুশেল সাত ডলার উনআশি সেন্টে লেনদেন হয়। এই পরিস্থিতির কারণে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগর অববাহিকায় বন্দর বন্ধ থাকা এবং নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত শস্য গুদামেই আটকে রয়েছে এবং কৃষিপণ্যের বিশাল জট তৈরি হয়েছে।
শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট খরাও গম উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়ার্টল্যান্ড অঞ্চলে তীব্র তাপমাত্রা ও বৃষ্টির অভাবের কারণে দেশটির মোট উৎপাদিত গমের প্রায় বিশ শতাংশ উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আবহাওয়াবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে বর্তমান বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মিশ্রণে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
