সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউনিফিকেশন চার্চের নেতা হান হাক-জা দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ইউনিফিকেশন চার্চের নেতা হান হাক-জা দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত

দক্ষিণ কোরিয়ার বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের শীর্ষ নেতা হান হাক-জাকে ঘুষ প্রদানের অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক ডেস্কের তথ্যের ভিত্তিতে উম্মাহকণ্ঠ ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী এবং দেশের সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কেওন হি-কে মূল্যবান উপহার সামগ্রী ঘুষ হিসেবে প্রদানের অভিযোগে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত দেখতে পেয়েছেন যে চার্চের পক্ষ থেকে সাবেক ফার্স্ট লেডিকে দুটি চ্যানেল ব্র্যান্ডের ব্যাগ এবং একটি হীরার হার উপহার দেওয়া হয়েছিল, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় আশি মিলিয়ন ওয়ান বা প্রায় আটান্ন হাজার মার্কিন ডলারের সমান।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই কিম কেওন হি নিজেই চার্চের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে বিশ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সান ময়ুং মুুনের ৮৩ বছর বয়সী স্ত্রী হান হাক-জা শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অস্বীকার করে আসছেন। এই মামলার জন্য বিশেষভাবে গঠিত কৌঁসুলী দল জানিয়েছে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা অর্জনের বিনিময়ে এই বিলাসবহুল সামগ্রীগুলো আদান-প্রদান করা হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের মতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে চার্চের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিশ্চিত করার এটিই প্রথম আইনি নজির।

তদন্তের অংশ হিসেবে হান হাক-জার ব্যক্তিগত সেফ থেকে প্রায় উনিশ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে কৌঁসুলী দল। সাবেক ফার্স্ট লেডি জেরার মুখে চ্যানেল ব্যাগগুলো গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছিলেন যে তিনি সেগুলো কোনো ব্যবহার ছাড়াই পরে ফেরত দিয়েছিলেন। গত আগস্ট মাসে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর কিম কেওন হি জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মপ্রকাশ করা এই সংগঠনটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সান ময়ুং মুন নিজেকে মাসিহ বা ত্রাতা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং হাজার হাজার দম্পতির গণবিয়ে আয়োজনের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। সমালোচকরা এই গ্রুপটিকে কাল্ট বা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করে আসছেন এবং ভক্তদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে আদায় করার অভিযোগ তুলেছেন। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকাণ্ডের পর এই চার্চটি আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর দৃষ্টির মুখে পড়ে, কারণ সন্দেহভাজন হামলাকারী এই গোষ্ঠীর কারণে তার পরিবারের দেউলিয়া হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। সিউল, টোকিও ও ওয়াশিংটনের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই সংগঠনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

banner
Link copied!