যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন পর আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর লারক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী আক্রমণ চালালে এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। জুলাই মাসের শেষভাগের পর এটিই ইরানে প্রথম মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনা। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে যে এই হামলায় দুই জন নিহত এবং আরও দুই জন আহত হয়েছেন। এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালীতে রকেট নিক্ষেপ ও সমুদ্র মাইন বসানোর ইরানি প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের পর এই সীমিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে ইরান লারক দ্বীপের পাশ দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি এবং আর্থিক ফি দাবি করছে বলে খবরে প্রকাশ।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা সোমবার ভোরে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। তবে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আল-মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে হামলার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, যদিও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা তারা নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো হামলাটি তাদের আইনগত আত্মরক্ষার অংশ ছিল। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে তারা যুদ্ধ চান না, তবে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইরানের উপকূলীয় খার্গ দ্বীপসহ তেল অবকাঠামোতে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। চলমান এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
