সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও জ্বালানি খাতের রেকর্ড লাভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও জ্বালানি খাতের রেকর্ড লাভ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান সামরিক অভিযানের অর্ধবছর পূর্ণ হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করলেও কর্পোরেট খাতের কিছু অংশের জন্য এটি বড় আর্থিক লাভের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে চলমান সংঘাতে বিশ্বের তেল কোম্পানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে, পক্ষান্তরে সাধারণ করদাতা ও অন্যান্য খাতগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। মার্কিন তেল জায়ান্ট এক্সনমোবিল চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাড়ে চৌদ্দ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক আয়। অপর মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন একই সময়ে বারো বিলিয়ন ডলার মুনাফা ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের টোটালএনার্জিজ ছয় বিলিয়ন ডলার এবং ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট শেল ও বিপি যথাক্রমে নয় দশমিক আট বিলিয়ন ও পাঁচ দশমিক সাত তিন বিলিয়ন ডলার ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করে তাদের আগের বছরের আয় দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এই অঞ্চলের শীর্ষ তেল উৎপাদক সৌদি আরামকো সর্বশেষ প্রান্তিকে তেত্রিশ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে আঞ্চলিক কিছু উৎপাদক ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি বা এডনক জানিয়েছে যে প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে তাদের বিক্রয় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা বাহান্ন শতাংশ কমে ছয়শ পঁয়ষট্টি মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যদিও তা তাদের প্রত্যাশিত সীমার ওপরে ছিল।

অন্যদিকে এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতারা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। গত জুলাই মাসের শেষভাগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধের সূচনা থেকে ওই সময় পর্যন্ত সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ছিল সাড়ে সাঁইত্রিশ বিলিয়ন ডলার। তবে হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের জননীতি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার লিন্ডা বিলমেসসহ বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, এই হিসাব কেবল স্বল্পমেয়াদী অস্ত্র ও সরঞ্জামের খরচকে নির্দেশ করে। ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনার মেরামত এবং আহত সেনাদের আজীবন চিকিৎসাসহ দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় বিবেচনা করলে প্রকৃত বাজেটীয় খরচ শেষ পর্যন্ত এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাপক লাভবান হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। গত আগস্ট মাসে পেন্টাগন টমাহক ক্রুজ মিসাইল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আরটিএক্স কর্পোরেশনের সাথে তেইশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি একটি চুক্তি ঘোষণা করেছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের উৎপাদন তিনগুণ করার জন্য লকহিড মার্টিনের সঙ্গে প্রায় উনষাট বিলিয়ন ডলারের আরেকটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলায় এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

banner
Link copied!