মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণতা ও মার্কিন আবহাওয়ায় বড় প্রভাব

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণতা ও মার্কিন আবহাওয়ায় বড় প্রভাব

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণতা এবং শক্তিশালী এল নিনোর বিরল ও শক্তিশালী সমন্বয় যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এই দুই বিশাল উষ্ণতা প্যাটার্নের কারণে চলতি শরৎকালে মার্কিন আবহাওয়া এবং জলজ জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে।

উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সামুদ্রিক জীবন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গবেষক অ্যান্ড্রু লিজিং জানিয়েছেন যে মহাসাগরজুড়ে বিস্তৃত এই উষ্ণতার ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে তৈরি হওয়া সুপার এল নিনো যা বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

এই দুই উষ্ণতার বিরল প্রভাবে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস এবং বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকার পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ইতোমধ্যে পনেরো সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে এবং এল নিনোর প্রভাবে এটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন। উষ্ণ মহাসাগরীয় পৃষ্ঠ থেকে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপ ছড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলীয় নদী এবং তীব্র ঝড়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং কানাডায় এই যৌথ প্রভাবে তুষারপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদী খরা পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ল্যারি ও‍‍`নিল উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের আবহাওয়া পরিবর্তন অতীতের মতো পর্বতমালায় বরফের স্তর মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি এবং বায়ুর গুণমান হ্রাসের শঙ্কাও বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেন সৃষ্টির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলেও প্রশান্ত মহাসাগরে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকদের মতে এই ঝড়গুলো সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ কমাতে কিছুটা সাহায্য করলেও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের সামুদ্রিক প্রাণীরা অতিরিক্ত তাপ ও অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে মারা যাচ্ছে অথবা গভীর সমুদ্রে সরে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত সাত বছর ধরে এই ধরনের বিশাল সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ নিয়মিত বিরতিতে ঘটে চলেছে যা সমুদ্রের ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার সরাসরি ফল। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে মহাসাগরগুলো গত চল্লিশ বছর ধরে মানবসৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের নব্বই শতাংশের বেশি শোষণ করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি জলবায়ু ব্যবস্থার একটি স্থায়ী রূপ নিতে শুরু করেছে এবং চলতি বছরে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

banner
Link copied!