মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রবাসী ইরানি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তীব্র বিভক্তি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

প্রবাসী ইরানি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তীব্র বিভক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের জেরে পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসরত প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে গভীর বিভক্তি তৈরি হয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে তেহরান সরকার এবং যুদ্ধের বিরোধিতার প্রশ্নে প্রবাসীরা বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চার বছর বয়সে ইরান ত্যাগকারী পেভান্দ খোরসান্দি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান যে বর্তমান যুদ্ধটি গণতন্ত্রপন্থীদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে এবং এটি তেহরান সরকারকে নতুন জীবন দান করেছে। তার বাবা হাদি খোরসান্দি একজন পরিচিত ইরানি ব্যঙ্গকার ও কবি ছিলেন, যিনি ১৯৮৪ সালে যুক্তরাজ্যে হত্যার শিকার হওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে এই হামলার পেছনে ইরানি সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে খোরসান্দি উল্লেখ করেছেন যে এই সামরিক অভিযান মূলত উপনিবেশবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ এবং এর ফলে বৈগ্রিক দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তিনি আরও বলেন যে কিছু প্রবাসী ভুলবশত মনে করছেন পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের সমান চোখে দেখছে, যা সম্পূর্ণ বাস্তবতার পরিপন্থী।

অন্যদিকে, প্রবাসীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রকাশ্য সমর্থন জানাচ্ছে। এই সমর্থকরা মূলত ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা মনে করছেন যে এই সামরিক চাপ তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পথ ত্বরান্বিত করবে এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করবে।

গত ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা প্রবাসী সমাজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বে অবস্থানকারী ইরানিদের এই আদর্শগত দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ফল। দেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে চলা এই বিতর্ক প্রমাণ করে যে তেহরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বসবাসকারী ইরানিদের মধ্যেও কোনো ঐক্যমত নেই।

banner
Link copied!